সৌদি আরব ও অন্য তিনটি আরব দেশ তাদের ১৩টি শর্ত মেনে নিতে কাতারকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা আরও ৪৮ ঘণ্টা বাড়িয়েছে। প্রথম দফায় ১০ দিন সময় গত রোববার পেরিয়ে গেলেও কাতার শর্তগুলো পূরণের ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এবারের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আরব উপসাগরীয় দেশ কাতারের ওপর প্রতিবেশী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন ও মিসর নতুন করে অবরোধ আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে কাতারের সঙ্গে ওই দেশগুলো গত মাসে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। তাদের ১৩টি শর্তের মধ্যে কাতারভিত্তিক আল-জাজিরা টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বন্ধ করার প্রস্তাব ছিল। তবে দোহা এসব শর্ত পূরণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদ ও কট্টরপন্থায় মদদ দেওয়ার অভিযোগ কাতার বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। আল-জাজিরা জানায়, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি গতকাল সোমবার কুয়েতে গিয়েছেন আরব দেশগুলোর শর্তের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক জবাব দিতে। কুয়েতের আমির এই সংকট নিরসনের লক্ষ্যে মধ্যস্থতা করছেন। কাতারের আইনজীবীরা এক বিবৃতিতে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর আচরণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। কাতারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত শনিবার বলেছেন, তাঁর দেশ প্রতিবেশী দেশগুলোর শর্ত বা দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে তাঁরা ন্যায্য শর্তের আওতায় সংলাপে বসতে রাজি আছেন।

প্রতিবেশী আরব দেশগুলো কাতারের ওপর নজিরবিহীন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবরোধ দিয়ে রেখেছে। এতে তেলসম্পদে সমৃদ্ধ ছোট্ট দেশটি বেশ সমস্যায় পড়েছে। খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস কাতার মূলত বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। এ মুহূর্তে সেগুলোর সংকট পূরণের জন্য ইরান ও তুরস্ক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সৌদি আরব, মিসর, ইউএই এবং বাহরাইনের অভিযোগ, কাতার মুসলিম ব্রাদারহুডসহ কট্টর ইসলামপন্থী একাধিক সংগঠনকে মদদ দেয়। আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলও এই কট্টরপন্থীদের সহযোগিতা করে। এ ছাড়া আঞ্চলিক শত্রু হিসেবে পরিচিত ইরানের সঙ্গেও দোহার সুসম্পর্ক আছে।

কাতার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে সব মিলিয়ে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। সমাধানের উপায় খুঁজতে উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আগামীকাল বুধবার কায়রোয় আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ কুয়েত বলেছে, দোহার পক্ষ থেকে গতকালের মধ্যে আরব দেশগুলোর শর্ত-প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার কথা।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে সমঝোতা করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্য আড়ালে চলে যায়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত সৌদি আরবের অবস্থানের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।

Share Button