নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি মৌসুমের ভারি বর্ষণে কয়েক দফা প্লাবিত হওয়ার পর জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছেন বলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। মহেশখালকে ঘিরে নেওয়া বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ খালের দুই পাশের এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে বলে আশ্বাস দেন নগর আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক। গতকাল সোমবার ভারি বর্ষণে চট্টগ্রামে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে নগর ভবনে এই সংবাদ সম্মেলনে আসেন মেয়র নাছির। এতে সম্প্রতি ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর চিত্র ও সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন মেয়র। আ জ ম নাছির বলেন, চট্টগ্রাম শহরের ৩৪ খালের মধ্যে কয়েকটি অস্তিত্বহীন হয়ে গেছে, অনেকগুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। মেয়রের দায়িত্ব নেওয়ার পর খালগুলোতে খনন করে পানিধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছি। এসব স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের ফলে আগে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে বেশকিছু এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছে দাবি তার। মেয়র বলেন, এসব স্বল্পমেয়াদি বেশকিছু পদক্ষেপের ফলে নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রিনভিউ এলাকা, নাজিরপাড়া, মোহাম্মদপুর, খতিবের হাট, নাঙ্গলপাড়া, বড়বাড়ি, বিবিরহাট পশ্চিম পাড়া এসব এলাকায় গত বছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা হলেও এ বছর আর হয়নি। এটা আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি। ৪১টি ওয়ার্ডের কোনো না কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে আমাদের কাজ চলছে। আমরা বসে নেই। কাজ করছি। কাজ করছি বলেই কিছুকিছু জায়গায় রেজাল্ট পেয়েছি। এসব কাজ আরও বেগবান হবে। চলতি মৌসুমে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর ইতোমধ্যে কয়েক দফা জলাবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীবাসীদের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কারের অভাবে নগরীর বিভিন্ন নালার পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ বলে অভিযোগ নগরবাসীদের। এছাড়া আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকার বাসিন্দারা তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতার জন্য মহেশখালের উপর দেওয়া বাঁধকে দায়ী করেন। মহেশখালের ওই পথ দিয়ে এসব এলাকার পানি কর্ণফুলী নদী হয়ে সাগরে যায়। নগরবাসীর অভিযোগের মুখে সম্প্রতি বাঁধটি অপসারণও করে সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাঁধ অপসারণের পর এখন জোয়ারের সময় বৃষ্টি হলে পানি নামতে না পারায় এসব এলাকার রাস্তায় পানি জমে থাকে। এই মহেশখাল ঘিরে বেশকিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মেয়র নাছির। তিনি বলেন, কয়েকশ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। রাস্তা উঁচু করা হবে, ড্রেন নির্মাণ করা হবে, কালভার্ট হবে। খালের আটটি পয়েন্টে মাটি উত্তোলন করা হবে যতবেশি সম্ভব। বাঁধ অপসারণের কারণে মহেশখাল দিয়ে জোয়ারের পানি এসে পুরো এলাকা প্লাবিত করছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ?মহেশখালে অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। এখন জোয়ারের পানি আসছে। জোয়ার আর বৃষ্টির পানি একসঙ্গে হলে পানি উঠার মাত্রাটা বাড়ে। মহেশখালের পানি বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার যে পথটা ছিল, সেটা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। পথটি আবার আবার ফাংশনাল করব আমরা। জায়গা অধিগ্রহণ করে দিয়েছি, যাতে পানিগুলো সরাসরি বঙ্গোপসাগরে ফেলা যায়। মহেশখালের পানিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে কর্ণফুলি ও বঙ্গোপসাগরে ফেলতে পারলে এ খাল ঘিরে থাকা পুরো এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস মেয়রের। আমরা যদি মহেশখালের পানিকে দুইভাগে বিভক্ত করে কর্ণফুলি ও বঙ্গোপসাগরে ফেলতে পারি এবং গৃহীত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের সাথে সাথে মহেশখাল রিলেটেড কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে এখানে জলাবদ্ধতা থাকবে না। চট্টগ্রাম যে খালগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে আরএস নকশার ভিত্তিতে ডিজিটাল জরিপ হচ্ছে বলেও জানান মেয়র। এছাড়া খালের উপর ও পাড় থেকে যত অবৈধ স্থাপনা আছে সেটাও পর্যায়ক্রমে অপসারণ করা হবে বলে জানান নাছির। মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরে অনেক জলাশয় ও জলাধার ছিল, যার অধিকাংশ এখন বিলীন হয়ে গেছে। অবশিষ্ট যেগুলো আছে সেগুলো যাতে ভরাট না হয় সে ব্যাপারে নগরবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো পুকুর বা জলাশয় ভরাট হতে দেখলে সিটি করপোরেশনকে খবর দেবেন। আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নেব। সম্প্রতি ভারি বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর ৩০ শতাংশ সড়কের ক্ষি

Share Button