নিজস্ব প্রতিবেদক : গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে যুক্ত করায় রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত এলে তা ‘ইতিবাচক’ভাবে নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। রোববার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি। গণপ্রতিনিধিদত্ব আদেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় ‘প্রতিরক্ষা কর্মবিভাসমূহ’ শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। বর্তমান সরকার আরপিওর সেই সংশোধনী ২০০৯ সালে সংসদে পাস করার সময় শব্দটি বাদ দেয়। ইসি সচিব বলেন, সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া, বিশেষ করে সাধারণ নির্বাচন যেই আঙ্গিকেই হোক, যেই ক্যাপাসিটিতে হোক তারা মাঠে ছিল। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যে সংজ্ঞা দেওয়া আছে, সেখানে তালিকায় যারা আছেন, আমার ধারণা তারাই পর্যাপ্ত। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সশস্ত্রবাহিনী বিভাগকে নির্বাচনী কাজে ব্যবহারের কথা না থাকলেও এর আগে বাংলাদেশে সেনা মোতায়েন করে নির্বাচন হয়। এ নিয়ে কোনো অসুবিধা না থাকলেও কমিশনকে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করে সেনাবাহিনী চাইতে হয়। আসন্ন ইসির সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে ‘সংজ্ঞা’ পরিবর্তনের মতামত এলে তা বিবেচনার আশ্বাস দেন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। এটা (আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনী রাখার বিষয়টি) কমিশন পজিটিভলি দেখবে। সবার ঐকমত্য থাকলে কমিশন সেটাকে অনার (সম্মান) করবে আমার যতটুকু ধারণা। সেনাবাহিনী একাদশ সংসদ নির্বাচনে কয়দিন আগে ও কী রকম দায়িত্বে মাঠে থাকবে তা কমিশন আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান ইসি সচিব। রোববার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আমলের মতো নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে হলে সেনাবাহিনীকে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে মোতায়েন করবে। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনের সাতদিন আগে থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, এই অবস্থানটা নিয়ে কমিশনে আলোচনা করতে হবে। পুরো কমিশন এটা আলোচনা ছাড়া, রাজনৈতিক দল যারা আছে তাদের সাথে আলোচনা করা ছাড়া এই পর্যায়ে কমিশনও সিদ্ধান্ত দিতে পারবে না। সিদ্ধান্তটি নিতে সময় লাগবে।

Share Button