মোঃ নাদিম হো‌সেন : চাঁপাইনবাবগঞ্জে ল্যাব ওয়ান মেডিকেল সার্ভিসেস এ একজন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক ওনার্স এসোসিয়েশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখা। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় শহরের একটি চাইনিজ হোটেলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্রাইভেট ক্লিনিক ওনার্স এসোসিয়েশনের জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ডা. জাহাঙ্গীর আলম।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, জুন মাসের ২৪ তারিখ দুুপুর দু’টায় শহরের পিটিআই এর সামনে অবস্থিত “ল্যাব ওয়ান মেডিকেল সার্ভিসেস” নামক একটি বেসরকারী ক্লিনিকে বাচ্চা প্রসবের নির্ধারিত সময়ের ২ সপ্তাহ অতিক্রান্ত হওয়া এক প্রসূতিকে অপারেশনের জন্য নিয়ে আসা হয়। এ সময় ক্লিনিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক শহিদ উল ইসলাম খান (কানসালট্যান্ট সার্জারি) রোগীকে থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে শারিরীক পরীক্ষা করলে রোগীর শরীরে ১০৩ ডিগ্রী জ্বর, কাঁপুনি, শ্বাস কষ্ট ধরা পড়ে। এছাড়া ওই সময় রোগীর দ্রুত হৃদস্পন্দন, জরায়ুর মুখ বন্ধ, আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষায় বাচ্চার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশী (১৭৪ প্রতি মিনিট), বিশেষ করে শারিরীকভাবে খুবই দুর্র্বল থাকায় এবং স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রস্তুত না থাকায় চিকিৎসক শহিদুল প্রসূতির স্বজনদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু রোগীর ভাই ল্যাব ওয়ানের কর্মচারী সোহাগ ও তার স্বজনরা চিকিৎসককে অপারেশন করার জন্য জোর অনুরোধ করেন। এমতাবস্থায় অন্যকোন উপায়ন্তর না দেখে ডা. শহিদুল রোগীকে এ্যান্টোবায়োটিক ইনজেকশন, এ্যান্টিআলসারেন্ট ইনজেকশন, স্টেরয়েড ইনজেকশন ও বমির ইনজেকশন দেয়ার জন্য নার্সকে বলেন এবং অপারশেন থিয়েটার থেকে বের হয়ে পুনরায় রোগীর স্বজনদের রোগীর অবস্থা ভাল নয় বলে জানান। এরই একপর্যায়ে রোগীর খিচুনি ও শ্বাস কষ্ট বৃদ্ধি এবং নাড়ির গতি ও রক্তে অক্সিজেনের পরিমান দ্রুত কমতে থাকায় হঠাৎ রোগীর কার্ডিয়াক এরেষ্ট বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হলে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এ সময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রায় পৌণে এক ঘন্টা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর পরেও হৃদযন্ত্র চালু না হওয়ায় রোগী মারা যায়। কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় ঘটনার ৪ দিন পর কিছু অসৎ দালাল ও কুচক্রী মহলের অপতৎপরতায় রোগীর স্বজনরা রোগীর মৃত্যুকে নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগ তুলে সিভিল সার্জণ বরাবর অভিযোগ করেন এবং সদর মডেল থানায় চিকিৎসকসহ ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে। যা আমাদের পেশাগত মূল্যবোধ ও নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীণ ষড়যন্ত্র মাত্র। তাই আমরা এই মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাংবাদিক সম্মেলনে এ সময় বিএমএর’ জেলা সাধারণ সম্পাদক ডা. গোলাম রাব্বানী, স্বাচিপের জেলা সভাপতি ডা. আব্দুস সালাম, প্রাইভেট ক্লিনিক ওনার্স এসোসিয়েশন জেলা শাখার সভাপতি ডা. ইউসুফ আলী, সহ-সভাপতি ডা. ময়েজ উদ্দিনসহ অন্যান্য চিকিৎসকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Share Button