বিদেশে বাংলাদেশিরা স্থায়ী হওয়ায় রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়) কম আসছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে ফি কমানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার সকালে সিলেটের নাইওরপুল এলাকায় নগর সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের অংশ হিসেবে একটি ফোয়ারা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রেমিট্যান্স প্রবাহ কেন কমছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুটি কারণে কমতে পারে। প্রথমত, যাঁরা বিদেশে থাকছেন, তাঁদের অনেকেই সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রক্রিয়া করছেন। দ্বিতীয়ত, তাঁদের একটি অভিযোগ আছে, রেমিট্যান্স পাঠানোর ফি অনেক বেশি। ফি কমিয়ে আনার চিন্তাভাবনা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

অর্থপাচার রোধে কী পদক্ষেপ নেবেন—জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পাচার সারা দুনিয়াতেই হয়। তবে রেটস অব গ্রোথ (পাচারের হার) আমাদের একটু বেশি। এর জন্য আমরাও দায়ী। আমরা এখানে জমির সরকারি মূল্য কমিয়ে রেখেছি।’

উদাহরণস্বরূপ অর্থমন্ত্রী বলেন, কেউ এক কোটি টাকার জমি বিক্রি করলে সেখানে সরকারি দাম ৩০ লাখ, বাকি ৭০ লাখ কালোটাকা হয়ে যায়। তবে পাচার বন্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগির জমির সরকারি দাম বাড়িয়ে বাজারদর করা হবে।

এ সময় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ারসহ আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল শুক্রবার সিলেটে পৌঁছান অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীকে তাঁর নির্বাচনী এলাকার পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান আওয়ামী লীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। বিকেলে তিনি সিলেটের ওসমানীনগর ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণকালে সহায়তা আরও বাড়ানো হবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিতরণের জন্য সরকার ৫০ লাখ পরিবারকে ভিজিএফ সহায়তা দিচ্ছে। কোনো কোনো জায়গায় তিন ও ছয় মাসমেয়াদি এই সহায়তা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।

ত্রাণ বিতরণ শেষে গতকাল সন্ধ্যায় সিলেট নগরের বড় ব্যবসাকেন্দ্র কালিকা ঘাটে ১৬টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা উদ্বোধন কর্মসূচিতে অংশ নেন অর্থমন্ত্রী।

Share Button