এস. কে কামরুল হাসানঃ আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের পৈত্রিক সূত্রে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিল দিন মজুর আরিফুল ইসলাম। কিন্তু ঐ সম্পত্তির উপর কু-নজর পড়ে একই এলাকার আব্দুস সাত্তার মোল্লার ছেলে বাচ্চু মোল্লার। বাচ্চু মোল্লা কৌশলে আরিফুলের পিতা জব্বার মোল্লার সকল সম্পত্তি ক্রয় করেছে বলে দাবি করেন বাচ্চু মোল্লা। তারই জের ধরে গত ইং- ১০/০২/১৭ তারিখে পূর্বপরিকল্পিত ভাবে একদল সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে দিনে দুপুরে আরিফুল সহ তার পরিবার ও ছোট্ট ছোট্ট শিশু বাচ্চাদের উপর বর্বরতা হামলা চালায় এবং তার বাড়ির সকল মালামাল লুটপাট করে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে তার সম্পত্তি দখল করে। তাৎক্ষনিকভাবে আরিফুল ও তার পরিবারকে পথচারীরা রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে উচ্ছেদের অভিযোগে আরিফুল বাদি হয়ে তৎকালীন সময়ে আশাশুনি থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদুর রহমান শাহিন মামলাটি আমলে না নিয়ে উল্টো বাদীকে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে থানা থেকে বাহির করে দেয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঐ দিন সাতক্ষীরার স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক দৃষ্টিপাত ও দৈনিক কাফেলা সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক পত্র পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিদুর রহমান শাহিন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে অভিযোগ করেছেন আরিফুল ও তার পরিবার। উল্লেখ্য প্রকাশ্য দিবালোকে ভুমিদস্যু ও জামায়াত ক্যাডার বাচ্চু মোল্লার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে গেলেও জামায়াত ক্যাডার বাচ্চু মোল্ল্যার ভয়ে এলাকার লোকজন মুখ খুলতে ও প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। এ ব্যাপারে স্বরজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভয়াবহ পাকিস্থানি বাহিনীর হত্যাযগ্যের অন্যতম সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন বাচ্চু মোল্লার পিতা আব্দুস সাত্তার মোল্লা। এ বিষয়ে আশাশুনি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হান্নান জানান, আব্দুস সাত্তার মোল্লা তৎকালীন পীস কমিটির সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন ও বর্তমানে জামায়াতের অন্যতম অর্থদাতা। এই ঘটনায় আরিফুল ইসলাম তার পৈত্রিক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার আশায় আইনসহায়তার বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন সুফল পায়নি। ঘটনার ৩মাস অতিবাহিত হওয়ার পরে গনমাধ্যম কর্মীদের স্বাক্ষাৎকারে অফিসার ইনচার্জকে পুনরায় মামলা নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে, তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন ঘটানার সত্যতার প্রমান পেলে অবশ্যই আসামীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি আশাশুনী থানায় অভিযোগের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন তদন্ত কর্মকর্তা এবং তার অভিযোগটি আমলে না নিয়ে বিবাদী দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন আরিফুলের পরিবার। বিচারের বাণী নিভৃত্তে কাঁদে এ কথাটি যেমন চিরন্তন সত্য ঠিক তেমনি আরিফুলের পরিবারে ঘটে যাওয়া নির্যাতন নিপীড়ন, সর্বপরি তার মাথা গোজার জায়গাটি ও শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিয়েছেন ভুমিদস্যূ ও জামায়াত ক্যাডার বাচ্চু মোল্ল্যা। তার এই জঘন্যতম ঘৃণীত অপরাধ করেও বহালতরিয়াতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং প্রতিনিয়ত আরিফুলকে জীবন নাশের হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। এ ব্যাপারে ভুমিদস্যূ বাচ্চু মোল্লার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রধান মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বরাবর অভিযোগ করেছেন আরিফুলের পরিবার।

Share Button