সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায়ের পক্ষে যারা কথা বলছেন তাদেরকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দিয়ে সরকার থ্রেট করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

লন্ডনে চিকিৎধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার  রোগমুক্তি কামনা করে বৃহস্পতিবার দুপুরে দোয়া-মাহফিল পূর্ব এক অনুষ্ঠানে সংক্ষপ্তি বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ওলামা দল। উলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কাজী সেলিম রেজার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিব-উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন  চৌধুরী এ্যানী, আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া, ওলামা দলের মাওলানা  দেলোয়ার  হোসেন, মাওলানা নজরুল ইসলাম, মাওলানা আলমগীর হোসেন খলিলী, হাফেজ জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংবিধানের  ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় ঘোষণার পর যারা সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করছেন, যারা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পক্ষে কথা বলছেন তাদেরকে সরকারের লোকরা এখন হুমকি দিচ্ছে। সরকারের নানা বাহিনী আছে তারা গিয়ে এ থ্রেট করছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সুপরিকল্পিত কাজ। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারকে বিব্রত করতে আওয়ামী লীগ ২১ আগস্টের ঘটনা ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে বলা হয়েছিলো মুক্তাঙ্গনে সভা করার জন্য। কেনো করেননি? আপনারা আওয়ামী লীগের অফিসের কাছে সভা করলেন। এরমধ্যে তো কোনো কিছু লুকিয়ে আছেন,কোনো ঘটনা লুকিয়ে আছে।

২১ আগস্টের ঘটনার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে ধানমণ্ডির সুধা সদনে শেখ হাসিনার বাসায় যেতে বাঁধা দেয়ার ঘটনারও সমালোচনা করেন রিজভী।

তিনি আরও বলেন, আজকে এ ভোটারবিহীন সরকারের কাছে আমাদের প্রশ্ন- ভয়ংকর সন্ত্রাসী শায়েখ আবদুর রহমানের শ্যালক আপনার সরকারের মন্ত্রী থাকে কী করে?

তাকে কেনো গ্রেফতার করে কারাগারে ভরে রাখেননি? আজকে যদি কারো আত্মীয় থাকার কারণে সেই নেতাকে জেলে যেতে হয়,তাহলে মির্জা আজম কেনো জেলে নেই?

তাকে  কেনো  গ্রেফতার করে আপনারা কারাগারে ফেলে রাখেননি? এখন যদি আমরা বলি, পিলখানার বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও আওয়ামী লীগ জড়িত।

আপনারা ক্ষমতায় আসার পরপরই এ ঘটনা ঘটেছে। তাহলে যত সেনা অফিসার মারা গেছেন এরজন্য দায়ী আওয়ামী লীগ- এটাই  তো সঠিক হবে।

বন্যাদুর্গত এলাকায় সরকারের জরুরি ত্রাণ ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ করে এর কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী।

তিনি বলেন,বন্যাদুর্গত এলাকায় সরকারের কোনো ধরনের জরুরি ত্রাণ সার্ভিস নাই। বিএনপি যেখানে ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাঁধা দেয়ার চষ্টো করা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, বুধবার কুড়িগ্রামের চিলমারীর হাতিয়া নামক একটি জায়গায় ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছিল আমাদের টিম, সেখানে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের লোকেরা বিএনপির ত্রাণ লুটপাট করার জন্য চক্রান্ত করেছিলো।

এরমধ্যেও কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুরে ব্যাপকভাবে আমাদের বিএনপির নেতা-কর্মী ত্রাণ বিতরণ করছেন এবং উপদ্রুত এলাকার বানভাসী মানুষের পাশে গিয়ে তারা দাঁড়াচ্ছেন।

Share Button