১৭টি বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান শেষ হলেও আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারছে না দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে দুদকের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট রেগুলেটরি অথরিটিকে চিঠি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় দেখিয়ে গ্রাহকদের দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি তছরুপের অভিযোগে গত বছর জুন মাসে সরকারি-বেসরকারি ১৭টি বীমা কোম্পানির বিরুদ্ধে এ অনুসন্ধান শুরু করেছিল দুদক। অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে সংস্থাটি। তা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে না পারাটা দুর্ভাগ্যজনক। দুদক আইন অনুযায়ী সরকারি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করা বা আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে। তবে সমস্যা হল, বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংজ্ঞায় পড়ে না। বোঝাই যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট আইনটি যুগোপযোগী নয়। পুরনো আইন দিয়ে চলছে বীমা কোম্পানিগুলো। সেক্ষেত্রে বীমা আইনে পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে। গ্রাহকদের স্বার্থে সরকারকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বীমা কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বস্তুত বীমার নামে দেশে একটি দুর্নীতিবাজ চক্র গড়ে উঠেছে। এদের কাছে শত শত বীমা গ্রাহক জিম্মি হয়ে পড়েছেন। কোম্পানিগুলো বীমা বাবদ কোটি কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে। অথচ সমস্যা দেখা দেয় ক্ষতিপূরণের দাবি নিয়ে। কোনো দাবি তারা সহজে নিষ্পত্তি করতে চায় না। হয়রানি ও নাজেহাল করে ভুক্তভোগীদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। এজন্য বীমা খাতের সিংহভাগ দাবিরই নিষ্পত্তি হয় না। এসব হয়রানির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হয় না। বরং অভিযোগ করলে প্রায়ই উল্টো ফল হয়। কারণ বীমা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অনেক রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। এ কারণে তারা অন্যায় ও দুর্নীতি করে পার পেয়ে যায়। এসব বন্ধ করা জরুরি। এজন্য বীমা আইনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বীমা খাতে ফিরিয়ে আনতে হবে শৃঙ্খলা।

Share Button