রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জঙ্গির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। এ লক্ষ্যে দ্রুত পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এ সংক্রান্ত নথির অনুমোদন দেন। এ প্রসঙ্গে হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ ইত্তেফাককে বলেন, চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে দ্রুত পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য প্রধান বিচারপতি নথি অনুমোদন দিয়েছেন। এখন পেপারবুক প্রস্তুতের জন্য মামলার যাবতীয় নথি বিজি প্রেসে পাঠানো হবে। পেপারবুক প্রস্তুত হলেই শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারন করতে পুনরায় নথি প্রধান বিচারপতির কাছে উপস্থাপন করা হবে।
গত ২০ আগষ্ট ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) দশ জঙ্গিকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেয়। এছাড়া একজনকে যাবজ্জীবন ও তিনজনকে ১৪ বছর করে দণ্ড দেয় আদালত। একই ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় আদালত নয় জঙ্গিকে ২০ বছর করেও দণ্ড দিয়েছে। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী ওই শক্তিশারী বোমার বিস্ফোরণ হলে এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধ এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হতো। এতে হতাহত হত শতশত মানুষ। এ ঘটনায় জড়িত আসামি মুফতি হান্নানসহ চারজন ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। শেখ হাসিনাকে হত্যা পরিকল্পনাকারীদেরও একজন ছিলেন মুফতি হান্নান।
রবিবার ঢাকার আদালত থেকে এই মামলার ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপরই দ্রুততার সঙ্গে মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য নথি প্রধান বিচারপতির কাছে প্রেরণ করা হয়। ডেথ রেফারেন্সের নথিতে হত্যাচেষ্টা মামলার রায়, কেস ডকেটসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংযুক্ত রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা জানান, ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) অনুযায়ী বিচারিক আদালতের দেয়া ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করতে হলে হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে থাকেন। আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্স একই সঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দায়রা জজ মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দিয়ে ডেথ রেফারেন্সের নথি প্রেরণ করা হয়ে থাকে।
২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায় শেখ লুত্ফর রহমান সরকারি আদর্শ কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে জনসভার প্যান্ডেল তৈরির সময় ৭৬ কেজি ওজনের একটি শক্তিশালী বোমা পাওয়া যায়। এই মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ গ্রহনের কথা ছিলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। বোমা পুতে শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় দশ জঙ্গিকে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে রবিবার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিরা হলেন, ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক ওরফে তারেক হোসেন ওরফে মারফত আলী, রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম ওরফে রাশেদুজ্জামান খান ওরফে শিমন খান, ইউসুফ ওরফে মোসহাব মোড়ল ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই ও মাওলানা আ. রউফ ওরফে মুফতি আ. রউফ ওরফে আ. রাজ্জাক ওরফে আবু ওমর। ১৯৭৪ এর বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (১) (এ) (বি) (সি)/২৫/(ডি) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল।
Share Button