দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুই টেস্টের জন্য সাকিব আল হাসানের বিশ্রাম মঞ্জুর হওয়ায় ১৫ সদস্যের টেস্ট দলে নেই তিনি। সাকিবকে বাইরে রেখে দল গঠন করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে নির্বাচকদের। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসবান্ধব কন্ডিশনের কথা বিবেচনা করে প্রথমে স্পিনার তাইজুল ইসলামকে দলে রাখতে চাননি নির্বাচকরা। কিন্তু সাকিবের না থাকার কারণে তাইজুলকে দলে নেয়া হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েছেন নাসির হোসেন। পেস সহায়ক কন্ডিশনের কথা চিন্তা করে দলে রাখা হয়েছে পাঁচজন পেসার। দলে ফিরেছেন রুবেল হোসেন, শুভাশিস রায় ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের শেষ ম্যাচে দলে জায়গা হারানোর পর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজেও দলে ছিলেন না মাহমুদউল্লাহ। অতীতে বাউন্সি উইকেটে তার ভালো খেলার রেকর্ডের কারণেই এবার মাহমুদউল্লাহকে টেস্ট দলে ফেরানো হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে দু’জন এবং শেষ টেস্টে এক পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু এবার কন্ডিশন ভিন্ন। পেস বোলারদের জন্য সহায়ক উইকেট হবে। সেখানে তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজাতে পারে বাংলাদেশ। সব বিবেচনা করে দলে রাখা হয়েছে পাঁচ পেস বোলার। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু দল ঘোষণার পরই নিজে থেকে জানিয়ে দিলেন সাকিবকে না রাখার কারণ।

তিনি বলেন, ‘সাকিব আল হাসান ছুটি চেয়েছে। তার ছুটি মঞ্জুর হওয়ার কারণেই তাকে দলে রাখা হয়নি। তবে ও যদি এর মধ্যে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করে তাহলে দ্বিতীয় টেস্টে দলে যোগ দিতে পারবে।’

দলের অন্যতম সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ শ্রীলংকায় নিজেদের শততম টেস্টের আগে দল থেকে বাদ পড়েন। এবার বাউন্সি উইকেটের কথা বিবেচনা করে প্রধান নির্বাচক তাকে দলে নিয়েছেন। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপে এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রুফিতে দারুণ খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ।

প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘তাকে নেয়াটা ব্যক্তিগতভাবে আমার সিদ্ধান্ত। কারণ সে বাউন্সি উইকেটে ভালো খেলে। ইংল্যান্ডেও সে ভালো খেলেছে। বর্তমানে সে যেভাবে ব্যাটিং করে, তাতে তার ভালো করার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’

সাকিবের অভাব কিভাবে পূরণ করছেন জানতে চাইলে মিনহাজুল আবেদিন বলেন, ‘সাকিবের জায়গায় আমরা একজন অতিরিক্ত স্পিনার নিয়েছি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল পাঁচজন পেসারের সঙ্গে সাকিব ও মিরাজ থাকবে। যেহেতু সাকিব নেই, এজন্য তাইজুলকে যোগ করেছি।’ এটাই বাংলাদেশের সম্ভাব্য সেরা স্কোয়াড বলে ধারণা প্রধান নির্বাচকের। সাকিবের শূন্যতা পূরণে তাইজুলের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে মাহমুদউল্লাহকেও বিবেচনা করা হয়েছে। অনেক সমালোচনার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজে নাসিরকে দলে রাখা হয়েছিল। দুই টেস্টেই খেলেছেন তিনি। ব্যাটিংয়ে খারাপ করেননি।

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে তাকে বাদ দেয়ার কারণ হিসেবে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে আমরা দল সাজাই। ভারসাম্য রাখতে আমরা দুইভাবে চিন্তা করেছি। এখানে দলের পরিকল্পনা, কম্বিনেশনের ব্যাপার রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বাউন্সি উইকেটে তার সামর্থ্যরে কথা বিবেচনা করেই নাসিরকে বাদ দেয়া হয়েছে।’

এদিকে গত কয়েক টেস্টে ইমরুল কায়েসের পারফরম্যান্স মোটেই ভালো নয়। এই সফরে তাকে কীভাবে রাখা হল? প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘এই সফরটা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের চেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজের অনেক পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে নতুন কাউকে দলে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাইনি। এ সিরিজে অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। ওকে এই সিরিজ পর্যন্ত দেখব। আশা করছি, সে রানে ফিরবে।’

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে সাকিবের ছুটি নেয়া কতটা ঠিক? মিনহাজুল আবেদিন বলেন, ‘সাকিব সারা বিশ্বে সব জায়গায় খেলছে। লম্বা বিরতি সে পায়নি। এ কারণেই সে ছুটি চেয়েছে। দুই টেস্টের জন্য তাই তাকে বিরতি দিয়েছি। সে হয়তো এরপরই বা একটা টেস্ট শেষেই দলের সঙ্গে যোগ দেবে। আমরা আশা করছি, সে দ্রুত ফিরবে। সাকিব আমাদের সেরা ক্রিকেটার।’

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ১৫ সদস্যের টেস্ট দল
মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল (সহ-অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন কুমার দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, শুভাশিস রায় ও মুমিনুল হক।

Share Button