মিয়ানমারের গণহত্যা, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, স্থলমাইন ব্যবহার এবং গ্রাম পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা তদন্তে আরও সময় চেয়েছে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন।

মিশনের চেয়ারম্যান মারজুকি দারুসম্যান জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের কাছে নির্ধারিত সময় আরও ছয় মাস বর্ধিত করে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করার আবেদন করেন।

সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের ৩৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেয়ার সময় তিনি এ আবেদন জানান বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এ সময় দারুসম্যান বলেন, তদন্ত আমাদের যেখানে নিয়ে যেতে চায় আমরা সেখানে যাব।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সঙ্গে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনায় রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো লক্ষ্য করে সেনা অভিযান চালানো হয়।

গত মার্চ পর্যন্ত চলা ছয় মাসের এ অভিযানকালে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন ও গণধর্ষণ করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী। ওই সময় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় অন্তত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা।

এই ঘটনাকে গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের শামিল আখ্যা দিয়ে এর বিচার দাবি করে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল।

পরে মিয়ানমারের পরিস্থিতি দেখতে একটি তদন্ত কমিশন পাঠানোর প্রস্তাব দেন জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াংঘি লি।

এরপর ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে গত মার্চে মারজুকি দারুসম্যানের নেতৃত্বে একটি তথ্যানুসন্ধান কমিশন গঠন করে।

এদিকে কমিশনটি গঠনের পর জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত তিন লিন এর আগেই বলেছিলেন, দারুসম্যানের তদন্ত কোনো উপকারী পদক্ষেপ নয়। তার দাবি, মিয়ানমার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, গত বছরের নিপীড়নের রেশ কাটতে না কাটতে চলতি বছরের ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

চলমান এই সহিংসতায় এ পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নিহত এবং অন্তত চার লাখ ১০ হাজার শরণার্থী পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন এবারের নিপীড়নকে জাতিগত নিধনের আদর্শ উদাহরণ আখ্যা দিয়েছে।

Share Button