ইসরাইল মিয়ানমারের কাছে কোটি কোটি ডলারের উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র বিক্রি করেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সে দেশের রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে বলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশটির কাছে অস্ত্র বিক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তে¡ও এ অস্ত্র বিক্রয় করা হয়েছে। ইসরাইলের সংবাদপত্র হারেৎজ ডেইলি এ খবর দিয়েছে।
পত্রিকার খবরে এপ্রিল থেকে ফেসবুকে মিয়ানমার নৌ বাহিনীর দেয়া একটি পোস্টের উল্লেখ করা হয়। এ পোস্টটিতে মিয়ানমার নৌবাহিনীকে ইসরাইলের নির্মিত সুপার ডিভোরা এমকে ৩ পেট্রোল বোট সরবরাহ করাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই)-এর একটি বিভাগ এ পেট্রোল বোট নির্মাণ করেছে। এ পেট্রোল বোট ৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারি মেশিনগান বা কামানের গোলাবর্ষণের সুবিধা সমন্বিত এলবিট সিস্টেমসহ বেশ কিছু ইসরাইলি উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবস্থা সজ্জিত।
হারেৎজ জানায়, ইসরাইল মিয়ানমারকে কমপক্ষে আরো দু’টি সুপার ডিভোরা পেট্রোল বোট হস্তান্তর করবে।
পত্রিকা ইসরাইলি অস্ত্র শিল্পের সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায়, এ অস্ত্র বিক্রির মোট পরিমাণ কোটি কোটি ডলার হবে। খবরে একজন অফিসারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, মিয়ানমারের নৌ বাহিনী প্রধান গত বছর ইসরাইল সফর করেন। এদিকে হারেৎজ-এর রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পত্রিকাকে বলেছে যে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাধারণত নিরাপত্তা রফতানি বিষয় কথা বলে না। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরাইল ্ইতোমধ্যে ১শ’টি টাংক, গানবোট, ক্ষেপণাস্ত্রসহ অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করেছে মিয়ানমারকে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সে মিয়ানমাকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মিয়ানমারের সামরিক জান্তা কোনো অস্ত্র সংকটে পড়বে না।
হারেৎজ-এ গত মাসে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয় যে মিয়ানমারে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের জন্য একটি আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে রায়কে গোপনীয়তার শ্রেণিভুক্ত করা হয়। ফলে রায় সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি।
২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একটি স্বীকৃত মানবাধিকার লংঘনকারী দেশ হওয়া সত্তে¦ও তার কাছে অস্ত্র বিক্রির জন্য ইসরাইলকে অভিযুক্ত করে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশটির বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
অন্য খবরে বলা হয়, মিয়ানমারের সাথে গোপন অস্ত্র ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইল। এ প্রেক্ষিতে মিয়ানমারের কাছে ইসরাইলের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করার দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর ইসরাইলের পার্লামেন্টের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন সে দেশের মানবাধিকার কর্মীরা।
ইসরাইলের মানবাধিকার আইনজীবী এইতে ম্যাক বলেন, যেখানেই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে সেখানেই ইসরাইলকে দেখা যাবে।

Share Button