মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন তিনি।

ফখরুল বলেন, “ওই আক্রমণে আমাদের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে, সাংবাদিকদের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে, তারা (সাংবাদিকরা) হামলার শিকার হয়েছেন। আপনারা সবই জানেন কারা আক্রমণ চালিয়েছে; এই আক্রমণকারীরা কারা- তা পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে চলে এসেছে।

“এনিয়ে তারা (ক্ষমতাসীন দল) বিভিন্ন প্রকার অপপ্রচার শুরু করেছে। তারা আমাদের দলের চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতির বিরুদ্ধেও একটা অপপ্রচার চালিয়েছে… যেটা প্রমাণিত হয়েছে, তিনি কখনোই এসবের মধ্যে ছিলেন না। আমরা বলতে চাই, এভাবে মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।”

কক্সবাজার যাওয়ার পথে শনিবার ফেনীতে মহাসড়কে একদল যুবক বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলা চালায়। খালেদার গাড়ি রক্ষা পেলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বহরে থাকা সাংবাদিকদের গাড়ি।

ওই হামলার জন্য বিএনপি ফেনীর আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের দায়ী করছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দাবি, বিএনপি হামলার এই ঘটনা সাজিয়েছে।

পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই রোববার রাতে একটি ইন্টারনেট সংবাদপত্রে একটি অডিও টেপ প্রকাশ করা হয়, যাতে খালেদার গাড়িবহরে হামলার নির্দেশ দিতে শোনা যায়।

আওয়ামী লীগ নেতারা অডিওর কণ্ঠটি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি শাহাদাত হোসেনের বলে দাবি করলেও তিনি তা অস্বীকার করে সেটি ধর্মপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন শাকার বলে পাল্টা দাবি করেন।

গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ‘সংবাদ মাধ্যমে কভারেজ পাওয়ার জন্য বিএনপি সাজানো’ বলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, “এই ঘটনা নিয়ে আশা করেছিলাম তিনি (কাদের) অন্তত এইটুকু করবেন… এটাকে নিন্দা করবেন প্রথমেই এবং হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেবেন। আর খোঁজার দরকার নেই, তাদের পরিচয় জানা হয়ে গেছে। তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য তিনি চেষ্টা করবেন।

“এটা না করে তারা (ক্ষমতাসীনরা) যেসমস্ত কথা বলছেন, বলেই যাচ্ছেন। সেটাকে আমরা সুস্পষ্টভাবে মনে করি সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া। রাজনীতিকে ধ্বংস করবার আরেক প্রক্রিয়া তারা শুরু করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এখনও সময় আছে, এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তাদের উচিৎ হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা।”

বিএনপি চেয়ারপারসনের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “গতকাল আমাদের নেত্রী বলেছেন যে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের যা করা উচিৎ ছিল, তারা তা করতে পারেনি, সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

“আমরা প্রথম দিকে বলে আসছি যে এদেরকে আশ্রয় দিয়ে তাদের খাওয়া-পড়ার ব্যবস্থা করা করতে। একইসঙ্গে সেই কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে, যেন সরকারের হাত শক্ত হয়; যাতে করে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে এ সমস্যাকে মোকাবেলা করা যায়। সেটা সরকার করেনি, তারা নাকচ করে দিয়েছেন।”

চার দিনের সফর শেষে দুপুরে খালেদা জিয়া চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে ঢাকায় রওনা হওয়ার আগে মির্জা ফখরুল এই সংবাদ ব্রিফিং করেন।

এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, গিয়াস কাদের চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি শাহাদাত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবু হাশেম বক্কর, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান এবং শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।

Share Button