রাজধানী জুড়ে তীব্র যানজটে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। এক থেকে দেড় কিলোমিটার রাস্তা পার হতেই সময় লাগছে দুই ঘণ্টারও বেশি। বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের লম্বা লাইন দেখা গেছে। জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও প্রাইভেট গাড়ির কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।গতকাল সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এক যোগে বিভিন্ন স্কুল মাদ্রাসার জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থীরা বের হলে প্রধান প্রধান সড়কগুলোসহ বিভিন্ন সড়কে যানজট লেগে যায়। এতে ছাত্র ছাত্রীরা যানজটের ভোগান্তিতে পড়ে যায়। সময়মত পৌছতে পারেনি পরীক্ষা কেন্দ্রে। শুধু তাই নয় এ কারণে গতকাল বিভিন্ন অফিস আদালতে যাওয়ার জন্য ও নানা প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়েই নগরবাসীকে পড়তে হয়েছে চরম দুর্ভোগে। যানজটের কারণে সময়মত পাওয়া যায়নি গাড়ি। মাঝে মধ্যে দু’য়েকটি পাওয়া গেলেও দিতে হয়েছে অতিরিক্ত ভাড়া। বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটেই অনেককে যেতে হয়েছে নিজ নিজ গন্তব্যে।
বিশেষ করে রাজধানীর মতিঝিল, শাহজাহানপুর, মৌচাক, মালিবাগ, মগবাজার ও পুরন ঢাকাসহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধ্যষিত এলাকাগুলোর সড়কে চলাচল করা যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে। এতে নগরবাসীর ভোগন্তির শেষ ছিল না। এছাড়াও নগরের অন্যান্য সড়কগুলোতেও এর প্রভাবে তীব্র যানজট লেগে যায়।
গতকাল সকালে মুগদাপাড়া বিশ্বরোডে মেয়েকে নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য গাড়ির অপেক্ষা করছিলেন তাহমিনা বেগম, তার সাথে কথা বলে জানা যায় মেয়ের জেএসসি পরীক্ষা তাই তিনি ২ ঘণ্টা আগে গর থেকে বের হয়েছেন। যেন সময় মত কেন্দ্রে পৌছতে পারেন। কিন্তু এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি কোন যানবাহনে উঠতে পারেননি। পরে বাচ্ছাকে হাতে করে কেন্দ্রের উদ্দেশে হেটেই রওনা দেন।
সরেজমিন দেখো গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই রাজধানীর মতিঝিল-পুরানা পল্টন-শাহবাগ-কারওয়ান বাজার সড়ক, পুরানা পল্টন-ফার্মগেট-মিরপুর সড়ক, মতিঝিল-যাত্রাবাড়ী সড়ক এবং সাইন্সল্যাব-ধানমন্ডি সড়কে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। এছাড়া মগবাজার ও মালিবাগ সড়কের তীব্র যানজটের প্রভাব পড়েছে মহাখালী-উত্তরা ও গুলশান এলাকায়। এসব এলাকার সড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
এ সময় পুরো রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজটের কবলে পড়া গাড়িগুলো চলছিলো কচ্ছপগতিতে। বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল, উত্তরা, খিলক্ষেত, কুড়িল-বিশ্বরোড হয়ে রামপুরা-মালিবাগ, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, মহাখালী, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, কাজী নজরুল ইসলাম এ্যাভিনিউ, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৌচাক, মগবাজার, কারওয়ান বাজার, এলিফ্যান্ট রোড, মিরপুর, খিলগাঁও বিশ্বরোড, পান্থপথ, নয়া পল্টন, পুরানা পল্টন, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, হাতিরপুল, নিউমার্কেট, আজিমপুর, গুলশান-১ ও ২, গুলশান এ্যাভিনিউ, সাত রাস্তার মোড়, নাবিস্কো, মিরপুর রোড, রোকেয়া সরণি, আসাদ গেট, শ্যামলী, কল্যাণপুর, জিগাতলা, আজিমপুর এলাকা দীর্ঘ সময় ধরে যানজটে অবরুদ্ধ ছিল।
নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোর মতোই যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছিল জনজীবনও। যাত্রাবাড়ি-টঙ্গী রুটে চলাচলকারী তুরাগ পরিবহনের যাত্রী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা অলিওর রহমান মোল্লা বলেন, আধ ঘণ্টার পথ যদি ৩ ঘণ্টা ব্যয় হয়, তাহলে মানুষ সারাদিন কাজকর্ম করবে কিভাবে? পান্থপথ মোড় দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল মতিন। তিনি বলেন, এদেশ চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেছে। যাওয়ার পথে ১৬০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে মতিঝিল গিয়েছি। এখন ফেরার সময় যানজটের কারণে গাড়িতে উঠে রাস্তায় বসে থাকতে আর ইচ্ছা হলো না। তাই বাধ্য হয়ে দিলকুশা থেকে পায়ে হেঁটে মোহাম্মদপুর যাচ্ছি। এই ভোগান্তি শুধু আবদুল মতিনের নয়।
গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতকারী অধিকাংশ লোকজনকেই এই ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে হেঁটে পরীবাগ যাচ্ছিলেন মতিঝিলের একটি বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা একরামুল হক। তিনি বলেন, দিলকুশা থেকে বাসে উঠে গুলিস্তান আসতে সময় লেগেছে এক ঘণ্টা। অথচ এই পথ হেঁটে আসতে সময় লাগে ১০ মিনিট। তাই সময় বাঁচাতে হেঁটেই যাচ্ছি।
সময় নিয়ন্ত্রণ পরিবহণের চালক মোহাম্মদ আলাল হোসেন বলেন, যানজটের কারণে মানুষ এখন বেশি দুরের পথ না হলে গাড়িতে উঠতে চায় না। যে কারণে আমাদের ইনকামও কমে গেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়- যাত্রাবাড়ি থেকে শনির আখড়া দীর্ঘ দুই কিলোমিটার গাড়ীর লাইন। মৌচাক, মালিবাগ, মগবাজর ও সাত রাস্তার মোড় এলাকায় যানবাহন যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। একটু সামনে গিয়ে আবার অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা। এভাবেই গতকাল রাস্তায় যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

Share Button