রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে এক বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে কানাডার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে। অটোয়ার পার্লামেন্ট হিলের সিনেটে মানবাধিকার বিষয়ক কমিটিতে এ শুনানি হয়। শুনানিকালে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসংশা করা হয়? সেই সঙ্গে অবিলম্বে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার, সেনাবাহিনী ও দেশটির নেত্রী অং সান সু চি’র প্রতি কানাডার চাপ প্রয়োগের বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচিত হয়।

শুনানিকালে সিনেট মানবাধিকার কমিটির বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মিজানুর রহমান? তিনি মিয়ানমার কর্তৃক জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন? জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত পাঁচ দফা প্রস্তাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করে হাই কমিশনার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাব অনুসারে কফি আনান কমিশনের সুপারিশের আলোকে মিয়ানমারকে তাদের নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং সংঘাত ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে তাদের দেশ মিয়ানমারে ফেরত নিতে হবে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপগুলোর মধ্যে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ‘বার্মিজ মুসলিমস’ এবং রোহিঙ্গা অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার নেতৃবৃন্দ শুনানিতে সাক্ষ্য প্রদান করেন? ‘বার্মিজ মুসলিমস অব কানাডা’-এর নেতা আহমেদ রামাদান রাখাইনে বর্মী সেনাবাহিনী ও তাদের মদদপুষ্ট মিলিশিয়াদের রোহিঙ্গা নিধনকে গণহত্যা বলে অভিহিত করে বলেন, এটি কেবল জাতিগত নির্মূল নয়, এক ভয়ঙ্কর গণহত্যা, যা বন্ধ করতে কেবল নিন্দা জ্ঞাপন নয়, বরং কানাডাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

সদেরা সুজন, সিবিএনএ কানাডা থেকে

Share Button