দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেছেন, এ সরকার ভিন্নমত, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। সেই প্রক্রিয়াতে তারা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ভিত্তিহীন ও জালিয়াতিমূলক মামলায় আগামি ৮ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের রায় দিতে যাচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হলো বিএনপিকে আন্দোলনের মাঠ থেকে বাইরে রাখা।
আজ সোমবার দুপুরে কুমিল্লার একটি আদালতে মানহানির মামলায় জামিন লাভের পর এসব কথা বলেন তিনি।
বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে যেখানে প্রধান বিচারপতিকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়, সেখানে আদালতের কোনো মূল্য আছে এ দেশে? না-কি আইনের শাসন আছে? না-কি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে? তো এ যখন বিচার বিভাগের অবস্থা, সেখানে আপনি বিচার বিভাগে ন্যায় বিচার আশা করতে পারেন না, যদি না আপনি অতি আশাবাদী হন।
খালেদা জিয়ার মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মামলা রাজনৈতিক মামলা, কাজেই এ মামলাটি বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করা উচিত ছিল, এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে বিএনপি। দেশের জনগণ আশা করে ৮ তারিখের পরে অন্তত বিএনপি এটাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে।
দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের বিষয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, বর্তমান দখলদার সরকার দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে, বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো লুটপাট করে সমস্ত টাকা-পয়সা বিদেশে নিয়ে গেছে। আজ আমানতকারীরা তাদের টাকা ফেরৎ পাচ্ছে না, অথচ এসব বিষয়ে বিএনপি আন্দোলনে নামতে পারেনি এখন পর্যন্ত। কাজেই সময় এসেছে বিএনপি তাদের গত কয়েক বছরের ব্যর্থতা বিবেচনা করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে এ দখলদার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে ৩৬ টি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে। আইনিভাবে তিনি এসব মামলার মোকাবেলা করবেন বলে জানান।
এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন, বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল খান, আমিরুজ্জামান আমির, অ্যাড. কামরুল হায়াৎ খান, অ্যাড. আলী আক্কাস, ভিপি জসিম উদ্দিনসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মাহমুদুর রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুস সা’দত জানান, কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেমায়েত উদ্দিনের আদালতে হাজির হয়ে মাহমুদুর রহমান মানহানির মামলায় জামিন লাভ করেন। গত ৭ জানুয়ারি তিনি এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিন লাভ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর পরিবার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কটুক্তি করার অভিযোগে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর এক হাজার কোটি টাকার মানহানির এ মামলাটি দায়ের করেন কুমিল্লা শহর ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউল হাসান চৌধুরী সোহাগ।
Share Button