রংপুর অফিস॥
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শরফুদ্দীন আহমেদ ঝন্টু মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি…রাজিউন)। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে ২৬ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।  রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকায় নেয়া হয়। তার দীর্ঘ রাজনীতি জীবনে তিনি ধীরে ধীরে মাঠ পর্যায় রংপুর সিটি কর্পোরেশনের(দশম সিটি কর্পোরেশন) প্রথম নির্বাচিত মেয়র। তিনি ১৯৫২ সালের ৭ জুলাই রংপুরের ইজ্ঞিনিয়ার পাড়ায় মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। পিতা- মৃত্যু মহিউদ্দীন আহমেদ, মাতা- মৃত্যু জোবেদা খাতুন। ১৯৬৭ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে দুটি বিষয়ে উপর স্টার মার্ক নিয়ে মেট্রিক প্রথম বিভাগে উত্তির্ণ হন এবং প্রথম বিভাগে এইচ এস সি পাশ করে । রংপুর সরকারী কলেজ থেকে বি কম পাশ করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করে নিজের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করেন। শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু ৮০ দশকের শুরু থেকে রাজনীতিতে জড়িত। তার দীর্ঘ রাজনীতি জীবনে তিনি ধীরে ধীরে মাঠ পর্যায় থেকে ১৯৮৭ সালে প্রথম উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহন করে প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯২ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত রংপুর পৌরসভা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে অংশ  নিয়েও গঙ্গাচড়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের শেষের দিকে নব গঠিত রংপুর সিটি কর্পোরেশর প্রথম নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন এবং প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন ঝন্টু। জাতীয় পার্টি সমর্থিত মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। তবে সর্বশেষ গত ২১ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে হেরে যান মোস্তাফিজার রহমানের কাছে। বাংলাদেশে এই প্রথম ব্যাক্তি যিনি একাধারে উপজেলা, পৌরসভা,সংসদ সদস্য, মেয়র নির্বাচিত হন ।

Share Button