দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে ধীরে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। কর্মসূচির ক্ষেত্রে ‘ন্যূনতম নমনীয়তা’ প্রদর্শন করবে তারা। মাঠের চেয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রতি জোর দেওয়া হবে। আগামী আগস্ট পর্যন্ত ‘কৌশলী’ নীতিতে চলে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামবে। আপাতত ঢাকার বাইরে কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় সদরে জনসভা করবে বিএনপি।
গতকাল গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সিনিয়র নেতাদের বৈঠকে এইসব সিদ্ধান্ত হয়। পরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বেগম জিয়া মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। অতি দ্রুত আইনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। বিভাগীয় জনসভা করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নতুন কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সময় মত তা ঘোষণা করা হবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোসহ সার্বিক পরিস্থিতি অবহিত করতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা চিঠি দিয়েছি।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ওয়ার্ডে ওয়ার্ড আলোচনা সভা ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানান, পরিস্থিতি বুঝে সামনে আগাবে বিএনপি। এখনি কঠোর আন্দোলনে গেলে অযথা শক্তিক্ষয় হবে। নেতারা গ্রেফতার হবেন। মামলা-হামলায় পর্যদুস্ত হতে হবে। সামনে নির্বাচনের এখনো অনেকটা সময় বাকি। নির্বাচনের আগে বড় কর্মসূচি নেওয়া হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আমরা ধীরে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাজপথে অহিংস আন্দোলন চলবে। আর আইনি লড়াইয়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা হবে। তিনি আরো বলেন, বৈঠকে মনিটরিং সেল গঠনের কথা বলা হয়েছে। নেতারা কেউ কেউ বলেছেন, এখন যারা নিস্ক্রিয় তাদের তালিকা করতে হবে। জেলায় জেলায় যাওয়ার জন্য যেসব নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা অনেকেই জেলা সফরে যাননি। এই দুঃসময়ে যারা ঘরে, কর্মসূচিতে আসছেন না তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, আমরা কিছু কৌশল নিয়ে আগাচ্ছি। বৈঠকে ম্যাডামকে মুক্তির জন্য কঠোর আন্দোলনের পক্ষেও মতামত এসেছে। তবে এইভাবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি জুন-জুলাই পর্যন্ত চলবে। তারপর বড় আন্দোলন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
Share Button