তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হয়, বাংলাদেশে এমন কোন আইন করবে না শেখ হাসিনার সরকার। সরকার ও সাংবাদিক  প্রতিপক্ষ নয় বরং পরিপূরক সম্পর্ক বজায় রেখে মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশে ভূমিকা রাখছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাব আয়োজিত ‘বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, এক সময় সংবাদপত্র বের করতো পেশাদার সাংবাদিকরা। আর এখন পত্রিকা বের করে সম্পাদক হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। তাই মালিকপক্ষের ভূমিকা কোন মাধ্যমের জন্য কতটুকু সহায়ক, তা বিশ্লেষণ করার সময় এসেছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় প্রবন্ধ পাঠ করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সিনিয়র সাংবাদিক হারুন হাবিব, জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল আলম, সহ-সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভুইয়া ও জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় প্রমুখ।
বাংলাদেশে আর সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদ সমর্থিত কোন সরকার ক্ষমতায় আসবে না মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সামরিক শাসন ও সাম্প্রদায়িকতার অনুচক্র গণতন্ত্রে বিদ্যমান। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে দেশের গণতন্ত্র। গণতন্ত্রকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে গণমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে।
সরকারের প্রতিপক্ষ হচ্ছে জঙ্গিগোষ্ঠী-মাফিয়া-কালোবাজারি দাবি করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ও আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতিপক্ষ নয় গণমাধ্যম। গণমাধ্যম তাদের পরিপূরক। যারা অপরাধ করবে, তাদের সবার বিরুদ্ধে লেখার অধিকার একজন গণমাধ্যমকর্মীর। মন্ত্রী, এমপি কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় বলেই সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হচ্ছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, মুক্ত গণমাধ্যম বলতে আসলে কিছুই নেই। মানুষ যদি মানবতাবাদী না হয়, তাহলে কোন আইনেই গণমাধ্যম স্বাধীন হবে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি নিরন্তর লড়াই। গণমাধ্যমের শত্রু শাসক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের প্রধান শত্রæ হচ্ছে জঙ্গী গোষ্ঠী। আর প্রতিটা গণমাধ্যমেও মাফিয়া চক্র রয়েছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে তথ্য বিকৃত নয়, বরং সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা গণমাধ্যমের কাজ। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন নিয়ে সবার মনে একটা সংশয় রয়েছে, তাই বিষয়টি নিয়ে ভাবার দরকার আছে।
Share Button