বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ থাইল্যান্ডে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা পদ্ধতি আরো সহজ করার জন্য থাইল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঢাকায় সফররত থাইল্যান্ডের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মত-বিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান। ইনভেস্টমেন্ট এন্ড ইকোনমিক রিফর্মস বিষয়ক মন্ত্রী কোবসাক পোট্রাকুল থাই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
মতবিনিময় শেষে তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশে থাইল্যান্ডের ১০০টি প্রকল্পে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোনে থাইল্যান্ড বিনিয়োগ করলে একটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন বরাদ্দ প্রদান করা হবে। এ জন্য সবধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প নগরীতে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করে রফতানি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত নগদ আর্থিক সহায়তার সুযোগ গ্রহণ করতে পারে।
বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের সঙ্গে এফটিএ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ মহুর্তে থাইল্যান্ড বাংলাদেশকে ৬,৯৯৮টি পণ্য রফতানি ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে ৪৮ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে, একই সময়ে আমদানি করেছে ৭৮১ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধসহ যে সকল পণ্য থাইল্যান্ডে প্রচুর চাহিদা রয়েছে এমন আরো ৩৬টি পণ্য রফতানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা চাওয়া হয়েছে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, থাইল্যান্ড বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র। ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে উভয় দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি করা সম্ভব। গতবছর বাংলাদেশে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি ছিল। এ বছর আরো বেশি হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শুভাশীস বসু, বাংলাদেশে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত বেনোয়েট প্রিফনটেইন, থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিসেস সাঈদা মুনা তাসনিম, থাইল্যান্ডের ডেলিগেশন সদস্য এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।  বাসস
Share Button