স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। অভিযানের ২০তম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে আনন্দ সিনেমা হলের সামনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠান উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকবিরোধী প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। এতে লেখা ছিল, ‘মাদক পরিহার করুন, নিজে বাঁচুন, আগামী  প্রজন্মকে বাঁচান’।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন, তেমনই মাদকের বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। আমরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ সব গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে গোপনে একটি তালিকা তৈরি করেছি। সেই অনুযায়ী দেশে অভিযান চলছে। এই তালিকা অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজধানীতে বিভিন্ন চেষ্টার পরও মাদকের বিস্তার ঘটেছে। তালিকা অনুযায়ী সব মাদক ব্যবসায়ীকে  আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ আগে থেকেই রাজধানীজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তবে আজ (গতকাল) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান শুরু হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ীর স্থান হবে না। আমরা সেই কথা সবাইকে জানিয়ে দেবো। তিনি বলেন, যার ঘরে একজন মাদকসেবী রয়েছে, সেই বুঝে এর কী যন্ত্রণা। মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সবাইকে আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে রাজধানী ঢাকা থেকে মাদক নির্মূল করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, রাজধানীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রত্যেককে ধরে বিচারের আওতায় আনা হবে। জনগণের সহযোগিতা নিয়ে রাজধানীর পাড়া-মহল্লার মাদক স্পটগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, পহেলা রমজান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, ঢাকা মহানগরের জনগণের সহযোগিতায় আমরা জঙ্গিবিরোধী অভিযানে সফল হয়েছি। মাদকের এই ভয়াবহতা থেকেও আমরা সফল হতে পারব।

অনুষ্ঠানে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার দেবদাশ ভট্টাচার্য, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়, যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শেখ নাজমুল আলম প্রমুখ। এছাড়া পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মাদকের বিরুদ্ধে গত ৪ মে থেকে শুরু হওয়া সাঁড়াশি অভিযানে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৫৩ জন। এর মধ্যে গত চার দিনে নিহত হয়েছে ৪০ জন।

Share Button