তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি॥
রাজশাহীর তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুন্ডুমালা পৌর মেয়র গোলাম রাব্বানী এখন নিজ ঘরে পরবাসি ও ‘বাঁবুই ভেঁজা’ (সবকিছু থেকেও নাই) হয়ে পড়েছে। অথচ এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশা করে এক সময় মাঠে নগদ নারায়ন (টাকা) ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি একটি মোহ সৃষ্টি করে ছিলেন। কিšত্ত যেই টাকা ছিটানো বন্ধ অমনি মোহের হাটে ভাঙ্গন মোহ আর বাস্তব পরস্পরবিরোধী সেটা এখন তিনি হাঁড়ে হাঁড়ে টের পাচ্ছেন। কৃণমূলের অভিমত, তার পরিকল্পনা ছিল নির্বাচনের মৌসুমে মনোনয়ন প্রত্যাশী দাবি করে কিছু টাকা-পয়সা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মদ্যে একটি মোহ সৃষ্টি করে এমপি ফারুক চৌধূরীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারলেই তাকে দ্বিগুন মূল্য দিয়ে কাছে টানবে। কিšত্ত দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এমপি ফারুক চৌধূরী তাকে কাছে না টানায় তাঁর সেই স্বপ্ন ও পরিকল্পনা উবে গেছে। একদিকে হাতে নগদ নারায়ন না থাকায় তিনি না পারছেন মাঠে নামতে, অন্যদিকে এমপি তাকে না ডাকায় না পারছেন এমপির কাছে যেতে, অর্থাৎ সবকিছু হারিয়ে এখন তিনি নিজ ঘরে পরবাসি ও ‘বাঁবুই ভেঁজা’ হয়ে পড়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাজনৈতিক অদুরদর্শিতার কারণেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তার ঝড়ের গতিতে উঙ্খান ও টর্নেডোর গতিতে পতন হয়েছে।
জানা গেছে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ ওমর ফারুক চৌধূরীর বিরোধীতা করে মাঠে তানোরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গোলাম রাব্বানী দিন দিন প্রায় একা হয়ে পড়ছে, দলের আদর্শিক সিনিয়র নেতারা অনেক আগেই তাকে ত্যাগ করেছে পাশাপাশি এখন তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও মূখ ফিরিয়ে নিয়েছে। ফলে চরম ঝুঁকির মূখে পড়েছে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তার প্রায় দীর্ঘ একদশকের একচ্ছত্র আধিপত্যর অবসান হতে চলেছে। সবকিছু মিলে তিনি চরম বেকায়দায় বাঁবুই ভেঁজা হয়ে পড়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি থেকে তাকে অপসারণের জন্য তৃণমূলে জোর দাবী উঠেছে আওয়ামী লীগে টিকে থাকায় এখন তার কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে সংগঠন পরিপন্থী (বিরোধী) কর্মকান্ডের অভিযোগে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেয়ার দাবি করে তৃণমূলের রেতাকর্মীরা দলের হাইকমান্ডের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক গুঞ্চন উঠেছে। এদিকে চাকরি দেয়ার নামে বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষের কাছে থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়েও চাকরি দিতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে এসব টাকা তাদের ফেরত সা দেয়ায় তার বিরুদ্ধে এসব এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এসব মানুষের অন্যতম পাড়িশো গ্রামের বাবু ৬ লাখ ও কচুয়া গ্রামের সোনা কাজি ৬ লাখ টাকা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরেও সেই টাকা পাচ্ছেন না। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে মুন্ডুমালা পৌরসভায় এডিপি ও জলবায়ু প্রকল্পের প্রায় কয়েক কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ তুলেছে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ ওমর ফারুক চৌধূরী তার একক ক্ষমতা বলে নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে গোলাম রাব্বানীকে দু’বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করেছেন। আবার এমপি ফারুক তার একক ক্ষমতা বলে দু’বার গোলাম রাব্বানীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিয়েছেন যদিও দু’বারই তার পরাজয় ঘটেছে। এছাড়াও এমপি ফারুক একক ক্ষতা বলে গোলাম রাব্বানীকে  দু’বার মুন্যুমালা পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে এবং তিনি নিজেও সর্বশক্তি নিয়োগ করে মেয়র হিসেবে বিজয়ী করে এনেছেন। অথচ এতো কিছুর পরেও এমপি ফারুকের বিরোধীতা করে গোলাম রাব্বানী নিজেই সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে আওয়ামী লীগের অত্যন্ত সম্ভবনাময় গোছানো মাঠ নস্টের তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। তাহলে যে নেতা তানোর উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে না সেই নেতা কি ভাবে সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হবেন-? কারণ গোদাগাড়ী উপজেলায় ভোটারের সংখ্যা প্রায় তানোরের দ্বিগুন। তৃণমূলের অভিযোগ আসলে গোলাম রাব্বানী এমপি ফারুকের বিরোধীতা করতে গিয়ে ও তাকে ঠেকাতে বিশেষ মহলের নেপথ্যে মদদে জামায়াত-বিএনপির বি-টিম হয়ে কাজ করছে। আর বিষয়টি উপলব্ধী করার পর পরই তৃণমূল তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে।

Share Button