তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি॥
রাজশাহী অঞ্চলে রাজনীতির মাঠে সাবেক ডাকমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আমিনুল হক একটি সুপরিচিত নাম। রাজনীতির মাঠে তাঁর অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে, তবে নেতিবাচক দিকও কম নয় অনেকক্ষেত্রে তা ঢের বেশি। রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ঘনিষ্ঠ দু’রাজনৈতিক সহচর একজন শীষ মোহাম্মদ প্রয়াত ও অপরজন আব্দুল মজিদ মাষ্টার আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। ফলে রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ দু’রাজনৈতিক সহচর হারিয়ে ব্যারিস্টার আমিনুল হক রাজনীতির মাঠে অনেকটা একা হয়ে পড়েছে। এতে তার মধ্যে এক ধরণের হতাশা ও উৎকন্ঠাা বিরাজ করছে। আবার রাজনীতিতে তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে তিনি ব্যাপক তৎপরতা শুরু করলেও তৃণমূলের কাছে থেকে তেমন কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। এমনকি তৃণমূল তার বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে সাবেক সচিব ড, জহুরুল ইসলাম ও প্রকাসী বিএনপি নো শাহীনের দিকে ঝুকছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এদিকে তার বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে মদদ দান, বিদেশে অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ উঠায় ও প্রায় ডজন খানেক মামলা বিচারাধীন ‘স্থগিত’ যা যে কোনো সময় ফের চালু হতে পারে এমন কথার প্রচার রয়েছে। আবার জোটগতভাবে নির্বাচন হলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান যেকোনো মূল্য এখানে প্রার্থী হবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এসব কারণে সাধারণ নির্বাচনে ব্যারিস্টার আমিনুলের প্রার্থীতা নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েঝে। আর এসব বিষয় মাথায় নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীরা তার ওপর আর ভরসা রাখতে পারছে না তার বিকল্প নেতৃত্বর দিকে প্রতিনিয়ত ঝুকছে বলে তৃণমূলের অভিমত।
স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীল সুত্রগুলো বলছে, বিগত দিনে ব্যারিষ্টার আমিনুল হক এই দু’সহচরের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করেই রাজনীতি করেছে তাঁর রাজনীতি ছিল সম্পূর্ণ এই দু’সহচর নির্ভর। অথচ যেই তৃণমূল রাজনৈতিক দলের প্রাণ সেই তৃণমুল নেতাকর্মীদের কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি। এসব কারণে তানোর ও গোদাগাড়ী এলাকার বিএনপির একটি বড় অংশ ব্যারিষ্টার আমিনুল হকের ওপর নাখোশ ছিলো। এদিকে তাঁর ডাকে তৃণমুল নেতাকর্মীরা তেমন সাড়া দিচ্ছে না, এসব নেতাকর্মী তাঁর বিকল্প হিসেবে ড, জহুরুল ইসলাম ও প্রবাসী বিএনপি নেতা অধ্যাপক শাহাদাৎ হোসেন শাহীনের দিকে ঝুকছে। ইতমধ্যে শাহীন দলের হাইকমান্ড থেকে সবুজ সঙ্কেত পেয়েছেন বলেও স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
খোঁজনিয়ে জানা গেছে, প্রবীণ, বর্ষিয়ান ও প্রভাবশালী দুই নেতা শীষ মোহাম্মদ প্রয়াত ও আব্দুল মজিদ মাষ্টার আওয়ামী যোগদান করায় এখানে বিএনপির রাজনীতিতে চরম বিশৃংঋলা ও নিস্ক্রীয়তা দেখা দিয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে দলের চেইন অব কমান্ড কেউ কারো নেতৃত্ব মানতে নারাজ। কেউ কেউ আবার নিজের সম্পদ ও ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষার জন্য গোপণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আতাত করে চলছে। এসব কারণে এখানে বিএনপিতে দেখা দিয়েছে একাধিক কমিটি ও উপ-কমিটি ফলশ্র“তিতে বিএনপিতে এখন হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। বিএনপিকে চাঙ্গা করতে ইতমধ্যে সদস্য সংগ্রহ ও নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তৃণমূলের কাছে থেকে তেমন কোনো সাড়া পাচ্ছেন না। সম্প্রতি ব্যারিস্টার আমিনুলের নির্দেশে তানোর উপজেলা ও মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির পকেট কমিটি গঠন করায় বিএনপিতে কোন্দল ও মতবিরোধ-এ নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তানোর ও গোদাগাড়ী বিএনপির একটি বৃহত অংশ ব্যারিস্টার আমিনুলের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ভোটের মাঠে স্বপক্ষ ত্যাগ করে প্রতিপক্ষের দিকে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে বিএনপির জৈষ্ঠ নেতারা মনে করছে।
অন্যদিকে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন আঁতাত ও বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ ওঠায় পরিস্থিতি আরোও জটিল হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যারিষ্টার আমিনুল হক, ড, জহুরুল ইসলাম ও শাহীনকে নিয়ে নেতাকর্মীরা কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তানোর উপজেলা বিএনপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জৈষ্ঠ নেতা বলেন, বিএনপির পকেট কমিটি বাতিল করা না হলে আগামি দিনে এর ফল ভালো হবে না। তিনি বলেন, প্রবীণ বিএনপি নেতা শীষ মোহাম্মদ ও আব্দুল মজিদ মাস্টারের অভাব পূরুণ হবার নয়। শীষ মোহাম্মদ প্রয়াত ও আব্দুল মজিদ মাষ্টার আওয়ামী লীগে যোগদান করায় এখানে বিএনপির মেরুদন্ড ভেঙ্গে গেছে। বিএনপি এখন (দন্তহীন) কাগজে বাঘ।

Share Button