লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ঃ রামগঞ্জের সরকারী হাসপাতালের দু’টি এম্বুলেন্স দীর্ঘ বছর যাবৎ কারাবন্দি অবস্থায় হাপসাতালের অন্ধকার কক্ষে অবস্থান করছে। এতে করে একদিকে যেমন উপজেলার প্রায় সাড়ে চার লক্ষাধিক জনসাধারণ সরকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে সৃষ্ট পরিস্থিতির আলোকে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হচ্ছে চরমভাবে। প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোর সাথে আঁতাত করে বিকল হওয়ার অজুহাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ জনসাধারণের। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ গুনময় পোদ্দার।
সুত্রে জানাযায়, রামগঞ্জ সরকারী হাসপাতালের অনুকূলে ১৯৮২ সনে প্রথম ১টি এম্বুলেন্স বরাদ্ধ হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সনের ২৬ এপ্রিল নতুন করে আরও ১টি এম্বুলেন্স সিএএ-৭১-০৩০৪ বরাদ্ধ আসে। এরপর দুই-তিন বছর অতিবাহিত না হতেই কর্তৃপক্ষ পুরনো এম্বুলেন্সসহ নতুন সেই এম্বুলেন্স বিকলের অজুহাতে হাসপাতালের একটি অন্ধকার কক্ষে রেখে দেয়।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অনেকেই জানান, রামগঞ্জের সরকারী হাসপাতালের আশপাশসহ শহরব্যাপী অর্ধশতাধিত প্রাইভেট ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। এসব ক্লিনিকে রয়েছে নিজস্ব এম্বুলেন্স। আর সরকারী হাসপাতালের ডাক্তারগনই ওইসব ক্লিনিকে চওড়া ভিজিটে রোগী দেখে থাকেন। এরই আলোকে প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকগন ডাক্তারদের সাথে গোপন চুক্তির মাধ্যমে প্রাইভেট এম্বুলেন্সগুলো পরিচালনা করছেন। এতে করে জনসাধারণ চরম মুহুর্তে চওড়া মূল্যে ওইসব প্রাইভেট এম্বুলেন্সগুলো ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে। এরজন্য ডাক্তারগন সুবিধা পেয়ে আসছেন বলেও তারা জানানা।
রামগঞ্জবাসীর স্বার্থে তড়িৎ সরকারী হাসপাতালের এম্বুলেন্সগুলো সচল করনের জন্য স্থানীয়ভাবে জোর দাবি জানান তারা।

করপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুল হক মুজিব বলেন, আমার এলাকা থেকে মুমূর্ষু কোনো রোগী প্রয়োজনে হাসপাতালে নিতে চাইলে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এলাকাবাস কে। তাই কতৃপক্ষ দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করবেন বলে আমার এলাকাবাসীর দাবী।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ গুনময় পোদ্দার জানান, জনগণ কর্তৃক আনিত অভিযোগ মিথ্যে। বর্তমানে হাসপাতালের এম্বুলেন্স দু’টি সত্যিকার অর্থেই বিকল। সৃষ্ট বিষয়ে বেশ কয়েকবার উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

Share Button