‘বিনা অপরাধে’ ভারতের কারাগারে প্রায় ১০ বছর বন্দি থাকার পর দেশে ফিরিয়ে আনা বাদল ফরাজিকে আদালতে হাজির করা নিয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পক্ষে আনা এক রিটের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রুল জারি করে আদেশ দেয়।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন। রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

আইনজীবী শাহীনুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, কেরানীগঞ্জে কারাগারে থাকা বাদল ফরাজিকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি, তা নিশ্চিতে কেন তাকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হবে না, সেই মর্মে রুল জারি করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত বছরের ৮ জুলাই তাকে মুক্তি দিতে একটি রিট করেছিলেন দুই আইনজীবী। যেটি একই বছরের ১১ জুলাই উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়ে যায়।

বাদল ফরাজি প্রায় ১১ বছর আগে ভারতে বেড়াতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন। তাকে বাদল সিং ভেবে একটি খুনের মামলায় অভিযুক্ত করে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারের চেষ্টার পর গত বছরের গত বছর ৬ জুলাই ভারত তাকে দেশে ফেরত পাঠালেও তিনি মুক্তি পাননি। ভারতের আদালতে দণ্ডিত হওয়ায় তিনি কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।

২০১৫ সালের ৭ আগস্ট বাদল ফরাজিকে দিল্লির সাকেত আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। উচ্চ আদালতে রায় বহাল থাকে সেখানে। রায়ের পর থেকে তিহার কারাগারের ৩ নম্বর সেলে জীবন কেটেছে তার। এখানে বন্দীদের কাউন্সেলিং করতে আসা মানবাধিকার কর্মী রাহুল কাপুরের সঙ্গে কথা হয় তার। সব শুনে তাকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেয় রাহুল। ‘জাস্টিস ফর বাদল’ শীর্ষক একটি আবেদনে স্বাক্ষর অভিযানও শুরু করেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ ভারতের বিভিন্ন পত্রিকা এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে। রাহুল বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করলে হাইকমিশন সরকারের কাছে চিঠি পাঠায়। সে অনুযায়ী বাদলকে নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এখন বাদল কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে। বিষয়টি নিয়ে রিট করেছে আইন ও সালিস কেন্দ্র।

Share Button