মার্কিন নির্বাচন নিয়ে ইরানের যত তৎপরতা

ছবি: সংগৃহীত

পরমাণু ও অন্যান্য ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ‘সর্বোচ্চ চাপ’র নীতির ফলে কঠোর নিষেধাজ্ঞায় পড়ে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা ইরানিদের। এ অবস্থার একটা পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে নভেম্বরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।

 তাই প্রতি মুহূর্তে ভোটের খুটিনাটি বিষয়ের দিকে তীক্ষ্ম নজর রাখছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশটি। হোয়াইট হাউসে কে আসছেন, ট্রাম্প নাকি বাইডেন- সেই আলোচনাই এখন তেহরানের ‘টক অব দ্য টাউন’।

সেইসঙ্গে থেকে একটা ভয়ও দোলা দিচ্ছে, হয়তো আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। ইরানের মতোই মার্কিন নির্বাচনের প্রতি নজর রাখছে রাশিয়া ও চীনও।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন নিয়ে ইরানের আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ পরমাণু ইস্যু। হোয়াইট হাউসের মসনদে কে বসছে- তার ওপরই নির্ভর করছে ইরান পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোমিনিক রাবও এ কথাই বলেছেন। চলতি সপ্তাহেই এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পই ফের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ‘দ্য জয়েন্ট কমপ্রিহেন্সিভ প্লান অব অ্যাকশন’ (জেসিপোয়া) নামের চুক্তিটি নতুন করে সম্পাদন করার প্রতিই জোর দেবেন তিনি।

২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার হাত ধরে চূড়ান্ত হওয়া আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তিটিকে ‘বাজে’ অভিহিত করে এর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে চুক্তির পরে তুলে নেয়া সব নিষেধাজ্ঞাই ফের বহাল করেন।

আর এ কারণেই ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চায় না তেহরান। ফলে ইরানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই মার্কিন নির্বাচনের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছে দেশটির নাগরিকেরা।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, এবার ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনই পছন্দ ইরানের। এর কারণ যুক্তরাষ্ট্রকে আগের পরমাণু চুক্তিতেই ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন।

ইরানের সংস্কারপন্থী গণমাধ্যম শার্গ’র পররাষ্ট্রবিষয়ক সাংবাদিক জয়নাব ইসমাইলি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন।
এএফপিকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইরানের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি হল, যুক্তরাষ্ট্রের এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ইরানি জনগণের জন্য জীবন-মরণ প্রশ্ন হয়ে দেখা দেবে।’

নানা নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে রাখার নীতির ফলে কঠিন আবর্ত্যে ইরানিদের জীবন। মোহাম্মদ আমিন নাকিবজাদেহ নামে ২৮ বছর বয়সী ছাত্র বলেন, পরমাণু ইস্যুর মতো বিভিন্ন কারণে মার্কিন নির্বাচন নিয়ে কথা বলা একটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।’

Share Button