ইউনাইটেডের হয়ে শিরোপা জিততে পারবেন কাভানি?
ইউনাইটেডের হয়ে শিরোপা জিততে পারবেন কাভানি? রয়টার্স ফাইল ছবি

জর্জ বেস্ট, এরিক কান্টোনা, ডেভিড বেকহাম ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো—বিশ্ব ফুটবলের সব বড় বড় নাম। নাম চারটি মিলে যাচ্ছে এক জায়গায়। তাঁদের সবার গায়েই উঠেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিখ্যাত ‘৭’ নাম্বার জার্সি। এমনিতেই বিশ্বের বিখ্যাত ক্লাবগুলোর একটি ইউনাইটেড, তার ওপর ক্লাবের সাত নাম্বার জার্সিটার বাড়তি একটা মাহাত্ম্য তো আছেই। তাই যার যার সময়ে তারকা খ্যাতিতে এগিয়ে থাকায় বেস্ট, কান্টোনা, বেকহাম হয়ে রোনালদোর গায়ে উঠেছিল ইউনাইটেডের ‘লাকি নাম্বার সেভেন’।

এই বিখ্যাত সাত জার্সি গায়ে চাপিয়েই রোনালদো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। ‘সাতে’র প্রেমে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদে গিয়েও বুঝে নিয়েছেন সে জার্সি। নিজের ব্র্যান্ডের নামও দিয়েছেন ‘সিআর সেভেন’। একদিকে সাত সংখ্যাটি রোনালদোর হয়ে উঠেছে, ওদিকে ইউনাইটেডের সাত যেন দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে আড়ালে। গত এক মৌসুম তো এ জার্সি মাঠেই নামায়নি ইউনাইটেড! অবশেষে বহু মূল্যবান সে জার্সি গায়ে চাপানোর মতো কাউকে পেল তারা। দলবদলের শেষ দিনে যোগ দেওয়া এদিনসন কাভানিই এ মৌসুমে পরবেন ইউনাইটেডের সাত নম্বর জার্সি।

রোনালদো ইউনাইটেড ছাড়ার পর এই জার্সিটা তার আবেদন হারিয়েছে। ২০০৩ সালে ইংলিশ তারকা ফুটবলার বেকহামের জার্সিটি উঠেছিল রোনালদোর গায়ে। ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড ছাড়ার আগে পর্তুগিজ তারকার গায়েই শোভা পেয়েছে জার্সিটি। এর পরে প্রায় ১১ বছরে জার্সিটি গায়ে চড়িয়েছেন অনেক। কখনো ইউনাইটেড আশা করেছে, বিখ্যাত জার্সির ছোঁয়ায় কেউ জ্বলে উঠবেন, আর কখনো তারা দলের ভবিষ্যতের কান্ডারি হতে পারেন এমন কারও কাছে দিয়েছিল এ জার্সি। কিন্তু কান্টোনা, বেকহাম কিংবা রোনালদোরা যে চাপ নিয়ে কিংবদন্তি হয়েছেন। সে চাপে উল্টো নুয়ে পড়েছেন তাঁদের উত্তরসূরিরা।

মাইকেল ওয়েন, আন্তোনিও ভ্যালেন্সিয়া, অ্যানহেল দি মারিয়া, মেম্ফিস ডিপাই ও অ্যালেক্সিজ সানচেজ—এরা সবাই পেয়েছেন সাত নম্বর জার্সির স্বাদ। নানা ঘাট ঘুরে আসা ওয়েন ইউনাইটেডের জার্সিতে কিছু করতে পারেননি। সম্ভাবনা জাগানো উইঙ্গার ভ্যালেন্সিয়া শেষ পর্যন্ত উইংব্যাক বনে গেছেন। ক্লাবের দলবদলের রেকর্ড ভেঙে যোগ দেওয়া দি মারিয়া এক মৌসুম পরই ‘পালিয়ে’বেচেছেন। প্রতিশ্রুতিশীল ডিপাইও সাতের চাপ নিতে না পেরে লিওঁতে গিয়ে হাঁপ ছেড়েছেন। তবে ব্যর্থদের তালিকায় সবচেয়ে বড় নাম সানচেজ।

২০১৮ সালে রোনালদোর চেয়েও বেশি বেতনে ইউনাইটেডে যোগ দিয়েছিলেন সানচেজ। এমনই পারফরম্যান্স ছিল যে, গত বছর ইন্টার মিলানে ধারে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে ইউনাইটেড। এ বছর ইতালিয়ান ক্লাবটিতেই থিতু হয়েছেন তিনি।
গত বছরের সানচেজ দল ছাড়ার পর থেকে প্রায় এক বছর ধরে ৭ নাম্বার জার্সিটি এখন ফাঁকা। সেটি পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দলে নতুন যোগ দেওয়ার উরুগুয়ের স্ট্রাইকার এদিনসন কাভানি। এই জার্সির ওজনের চ্যালেঞ্জটা নিতে চান ৩৩ বছর বয়সী উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার, ‘আমি জানি আপনি মাঠ থেকে বের হয়ে আসার পর আপনি কত নাম্বার জার্সি পড়ে খেলেছিলেন, সেটা কোনো প্রভাব রাখে না। কিন্তু আপনি যখন ইউনাইটেডের ৭ নাম্বার জার্সি পড়বেন, বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি আমি এটার সঠিক মর্যাদা দিতে পারব এবং আগে যে তারকা ফুটবলাররা জার্সিটি পড়ে খেলেছে, তাঁদের সম্মান রাখতে পারব।’

প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের জার্সিতে ২০১৩ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সুভাস ছড়িয়েছেন কাভানি। ৩০১ ম্যাচ খেলে ২০০ গোল করে ফ্রেঞ্চ দলটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসে আছেন তিনি। এবার তাঁর সামনে বিশ্বের বিখ্যাত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার চ্যালেঞ্জ, ‘বিশ্বের সেরা একটি লিগ। এখানে খেলতে পারা আমার জন্য বড় সম্মানের ও চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই রোমাঞ্চিত। ইংল্যান্ডের অনেক দলের বিপক্ষে খেলার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এখন প্রতি সপ্তাহে খেলা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পালা আমার।’

নতুন মৌসুমে কাভানির দল ইউনাইটেডের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। তিন ম্যাচে এক জয়ের বিপরীতে হার দুইটি। এর মধ্যে শেষ ম্যাচে টটেনহামের বিপক্ষে ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে তারা। বর্তমানে দলের সঙ্গে থাকলেও কোয়ারেন্টিনে থাকার জন্য এখনো ইউনাইটেডের জার্সিতে মাঠে নামা হয়নি তাঁর। আন্তর্জাতিক বিরতি শেষে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে মাঠে নামা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।

Share Button