পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁঞা পুলিশের জন্য লজ্জার বিষয়। প্রসঙ্গত সিলেটে পুলিশ হেফাজতে মো. রায়হান আহমদের (৩৪) মৃত্যুর ঘটনায় তিনি বরখাস্ত হন।

মঙ্গলবার দুপুরে নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ায় রায়হানের বাসায় গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এসআই আকবর দেশেই আছে। সে যেন বিদেশে পালাতে না পারে, সে জন্য সব সীমান্তে সতর্কতা জারি করা আছে। আমরা শিশু রাজনের খুনিকে সৌদি আরব থেকে ধরে এনেছিলাম। আকবর বিদেশে পালালেও গ্রেপ্তার করা হবে।’

এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রায়হানের মা ছালমা বেগমসহ পরিবারের সব সদস্যকে হত্যা ঘটনার বিচারের বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। মন্ত্রী রায়হানের মাকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা হয়েছে। আপনার ছেলে হত্যার বিচারে পুলিশ-র‍্যাব সবাই কাজ করছে। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। আপনার ছেলে হত্যার বিচার হবে। আপনি ঠিকমতো বিচার পাবেন।’

রায়হানের বাসার সামনে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে সাংবাদিকেরা মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনকে জানালে তিনি বলেন, ‘কেস নেবে না—এ রকম কোনো অপচেষ্টা করেনি পুলিশ। এটা খুবই দুঃখজনক রায়হান মারা গেছে। এই ধরনের বাজে কাজ যাতে কখনো আর সিলেটের ভূমিতে না হয়, সেটা প্রার্থনা করি।’

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এ সময় রায়হানের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি
সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে মারা যাওয়া রায়হানের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে মঙ্গলবার তাঁর বাড়িতে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এ সময় রায়হানের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি

রায়হান হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলন, ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এই বিচার নিয়ে, এই ইস্যু নিয়ে হরতাল; কোভিডের সময়ে করা ঠিক হবে না। কোনো কোনো লোক ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। তাদের প্রশ্রয় দেবেন না। সরকার এক পায়ে দাঁড়িয়ে, বিচার হবেই।’

অভিযোগ আছে বরখাস্ত হওয়ার পর আকবরকে পালিয়ে যেতে পুলিশ সহায়তা করেছে—এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটাও দেখা হচ্ছে। আকবরকে পালাতে কেউ সাহায্য করেছে কিনা, তাঁদেরও বিচার হবে।’

বন্দরবাজার ফাঁড়িসহ সিলেটের বিভিন্ন ফাঁড়িতে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ আছে পুলিশের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সাংসদ হিসেবে কী পদক্ষেপ নেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী কিছুটা বিরক্তবোধ করেন। তিনি বলেন, ‘এখন দুনিয়ার সব ইস্যু নিয়ে আসবেন? আমাদের দেশে সব তো আর ফেরেশতা না। আমাদের দেশে ভালো-মন্দ সব মিলে আছে। পুলিশ ফোর্সে ভালো-মন্দ আছে। আকবর পুলিশের জন্য লজ্জার বিষয়। দুনিয়ার সব জায়গায় দুষ্ট লোক আছে বলে আইন-কানুন আছে।’

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা থেকে বিমানের একটি ফ্লাইটে করে সিলেটে পৌঁছান এ কে আব্দুল মোমেন। সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি তিনি রায়হানের বাসায় যান। ২টা ৫০ মিনিটের ফ্লাইটে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

Share Button