সিইসি ও বিএনপির লোগো

ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে উপ-নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেওয়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেছেন, যেখানে প্রচারণা, সেখানেই বাধা দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। বিএনপি বিশ্বাস করে নির্বাচন এবং ভোট ছাড়া একটা সরকার পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। জনগণ যে রাষ্ট্রের মালিক, এই মালিকা প্রমাণ করার একটা অধিকার হচ্ছে ভোট। এই অধিকারটাকে তারা (ক্ষমতাসীনরা) ছিনিয়ে নিয়েছে। এই অধিকারটিকে আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই। পরে এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেছেন, বাংলাদেশের কালচারে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ থাকবেই। তবে কোনো ব্যাপারে কারো প্রতি কোনো ফেবার বা আনুকূল্যের কিছু নাই।

আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বুধবার বিকেল তিনটায় ইসির সঙ্গে বৈঠকে বসে বিএনপির প্রতিনিধি দল। বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, যুগ্ম-সচিব ও পরিচালক (জনসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম ও ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন।

বৈঠক শেষে বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম বলেন, ভোটের অধিকারটিকে আমরা ফিরিয়ে আনতে চাই। ফিরিয়ে আনার জন্য আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি। এই নির্বাচনগুলো যে সুষ্ঠু হয় না, সেটি আপনাদের কাছে কমপ্লেন করি। সেই কমপ্লেন গুলি যেভাবে কার্যকর হওয়ার দরকার, তা কার্যকর হয় না। তার একটাই কারণ নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচনী এলাকার প্রশাসনিক দায়িত্ব কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে। পুলিশ থেকে শুরু সবই তো তার দায়িত্বে।

আমরা বলেছি, পুলিশ কর্মকর্তারা আপনার কথা শোনে নাকি বর্তমান সরকারের আওয়ামী লীগ সরকারের কথা শোনে-এটা আইডেন্টিফাই করতে হবে। যদি করতে না পারেন তাহলে কোনোভাবেই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে না। আইনশৃঙ্খলায় যারা আছে তাদের ফেয়ার করতে হলে আপনাকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। এখন তারা আপনার অধিনে আছেন এবং আপনি তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। ঢাকায় সরকারি দলের প্রার্থী প্রতিটা ক্ষেত্রে আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে এবং আমরা সেগুলো রিটার্নিং অফিসারের কাছে জানিয়েছি। কিন্তু তার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উপনির্বাচনে আমাদের প্রার্থীকে কোনো প্রচারণা করতে দেয়া হচ্ছে না। যেখানে আমরা প্রচারণা করতে যাচ্ছি, সেখানেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমাদের বাধা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, একটাই কারণ জনগণের মেনন্ডেড নিয়ে যেহেতু সরকার আসে নাই। কাজেই এই সরকার ভোটকে খুব ভয় পায়। ভয় পায় বলেই জনগণ ভোটকেন্দ্রে যাক এটা তারা চায় না। এ কারণে এখন থেকেই তারা নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে চাচ্ছে। আমরা এখানে থাকতে এই মূহুর্তে কিছুক্ষণ আগে বিএনপির প্রার্থীর স্ত্রী গণসংযোগ করতে গেছে। সেখানে এলাকার গুন্ডা পান্ডারা সেখানে তার সাথে অসদাচরণ করেছে, আক্রমণ করেছে এবং তারা যাতে গণসংযোগ করতে না পারে সেই ব্যবস্থা করেছে। আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বলেছি, প্রয়োজনে আপনি দুই প্রার্থীকে ডাকেন বা প্রার্থীর প্রতিনিধিকে ডাকেন। এক জায়গায় বসে ভাগ করে দেন কে কোথায় সভা সমাবেশ করবে, গণসংযোগ করবে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু এ্ নির্বাচন অবশ্যই ফেয়ার হতে হবে। যদি না হয় তাহলে এর দায় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থীকে ঘর থেকে বের হতে দিচ্ছে না আওয়ামী লীগের কর্মীরা। তারা কোনো প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে পারছেন না।

অভিযোগ শুনার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কি বলেছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যা উনি বলেছেন-আপনারা বলে ভালো করেছেন। এখনো সময় আছে। আমরা চেষ্টা করবো এগুলো যাতে কার্যকর হয় এবং আপনারা প্রস্তাব ভালো দিয়েছেন এটা উনি বলেছছেন। আমরা তো চাই উনি আন্তরিক হোক। কারণ এখনো সময় আছে। আমরা ভোটটা চাই। কাজেই উনি আন্তরিক হোক এটাই আমরা চাই।

মোটা দাগে বিএনপির তিনটি অভিযোগ-ইসি:ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ বলেন, বিএনপি প্রতিনিধি দলের মোটা দাগে তিনটি অভিযোগ ছিল। পুলিশের অসযোগিতা বা অসহায়ত্ব, বিএনপি প্রার্থীর প্রচারণায় বাধা আর আওয়ামী লীগ প্রার্থী কর্তৃক নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করা। এই অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন শুনেছেন। সেখানে আমাদের রিটার্নিং অফিসারও ছিলেন কমিশন তাৎক্ষনিক নির্দেশনা দিয়েছেন। পরবর্তীতে আবার কমিশন মিটিংয়ে বসে একটা সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন হয় সেবিষয়ে যা যা করা দরকার নির্বাচন কমিশন তাই তাই করবে। এ বিষয়ে তাদেরকে আশ্বস্ত করেছে। তারা আশ্বস্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যা তারা আশ্বস্ত হয়েছেন, ভরসা করতে পেরেছেন। কয়েকটি বিষয়ে তারা প্রশংসা করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শতভাগ অভিযোগ সঠিক হবে, তা নাও হতে পারে। অনেক অভিযোগ আমলে নাও আসতে পারে। বাংলাদেশের কালচারে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ তো থাকবেই। কোনো ব্যাপারে কারো প্রতি কোনো ফেবার বা আনুক‚ল্যের কিছু নাই।

প্রার্থী হিসেবে আমাকেও বাধা দেয়া হচ্ছে-জাহাঙ্গীর:বুধবার সকালে উত্তরায় নিজ বাসায় ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন, নেতাকর্মীদেরই নয়, প্রার্থী হিসেবে আমাকেও গণসংযোগে আওয়ামী লীগ বাধা দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ ঝামেলা করলেও আমরা কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। কারণ, আমাদের সঙ্গে সাধারণ ভোটাররা আছেন। তারা আগামী ১২ নভেম্বর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। যেখানেই ধানের শীষের গণসংযোগের ন্যূনতম সুযোগ হচ্ছে, সেখানেই গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ ভীত হয়ে এ সব হামলা করছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের উত্তরের সভাপতি ফকরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক রিয়াজ প্রমুখ।

Share Button