রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ তিনটি হলেও দুজন সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। সেজন্য এখন তিন পদের দায়িত্ব বর্তেছে একজনের কাঁধে। তাই শিগগির এই দুই পদে নিয়োগ হতে পারে বলে আলোচনা চলছে।

গত ৮ অক্টোবর আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিনকে (এ এম আমিন উদ্দিন) ১৬তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এর তিন দিনের মাথায় ১১ অক্টোবর দুই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির পদত্যাগ করেন। পদ দুটি শূন্য হওয়ার পরপরই সরকার নতুন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করে। সামনের সপ্তাহেই নিয়োগ সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয় ও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় সূত্র।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এ পদ পূরণে পেশাদার আইনজীবীদের মধ্য থেকে যোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তিকেই নিয়োগ দেয়া হবে। যদিও গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পদে নিয়োগ পেতে অনেকেই চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সরকারের সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে বিচক্ষণতারই নজির দেখাবেন বলে আশা আইনজীবীদের।

সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীরা বলছেন, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর মামলার পাশাপাশি মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৯টি আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায়। এ সমস্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য শিগগির দুই শূন্য পদে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেয়া উচিত। যারা দক্ষ ও অভিজ্ঞ তাদেরই এই পদে নিয়োগ দেয়া দরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদ দুটি শূন্য রয়েছে। তবে এই পদে নিয়োগ দিয়ে থাকেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি। তিনি (রাষ্ট্রপতি) দেশের বাইরে ছিলেন, তিনি ফিরে এসেছেন। এখন আশা করছি খুব শিগগির এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হতে পারে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করার জন্য সরকার আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে থাকে। তারা রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে তিনজন থাকার কথা থাকলেও এখন আছেন একজন, যেজন্য মামলার কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।

 অন্যদিকে করোনার কারণে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে নিয়োগের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে আছে। দুজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল না থাকায় ওই কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে মোট ১৮৪ জন কর্মচারী রয়েছেন। তাদের পদোন্নতিসহ অন্যান্য বিষয় দেখভাল করার কমিটিতেও দায়িত্বে থাকেন একজন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। তাছাড়া, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয় করার জন্য একটি কমিটি থাকে। এগুলোও দেখে থাকেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। দুই পদ শূন্য থাকায় স্থবির হয়ে আছে এসব কার্যক্রমও।

এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক জাগো নিউজকে বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মামলা পরিচালনার বাইরেও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের কিছু কাজকর্ম করতে হয়। ক্রয় ও টেন্ডার কমিটি, নিয়োগ কমিটি এবং পদোন্নতি কমিটিতে প্রধান হিসেবে দায়িত্বে থাকতে হয় অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্য থেকে কাউকে। অন্যদিকে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে মামলা জট রয়েছে। এ সমস্ত মামলা শুনানির জন্যও এই নিয়োগ দ্রুত হওয়া প্রয়োজন।

একেএম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, আমার মতে, যত দ্রুত নিয়োগ হবে ততই সমস্যার সমাধান হবে। যারা প্রশাসনিক কাজে দক্ষ ও মামলা পরিচালনায় অভিজ্ঞ তাদেরই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দেয়া হলে ভালো হবে।

Share Button