ঢাকা: সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম হত্যা মামলায় মাইন্ড এইড হাসপাতালের এক পরিচালক নিয়াজ মোর্শেদকে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়নি। দু’দিন পর গ্রেফতার প্রতিষ্ঠানটির আরেক পরিচালক ফতেমা তুজ যোহরা ময়নাকে (৪৫) আদালতে হাজির করেনি পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবদাস চন্দ্র অধিকারীর আদালতে অসুস্থতার বিষয়টি অবহিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার পরিদর্শক ফারুক মোল্লা।ফাতেমা খাতুনকে আদালতে হাজির করতে হাজতি পরোয়ানা (পিডব্লিউ) ইস্যুর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনে বলা হয়, ফাতেমা খাতুনকে গ্রেফতারের পর ১২ নভেম্বর আদাবর থানায় আনা হয়। আগে থেকে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত। থানা হেফাজতে থাকাকালীন ১৩ নভেম্বর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে নেওয়া হয়। অধ্যাপক ডাক্তার গোলাম আজমের অধীনে তিনি চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসা শেষে সুস্থতা সাপেক্ষে আদালতে সোপর্দ করলে ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে হাজতি পরোয়ানা ইস্যু করা হবে বলে বিচারক আদেশ দেন। একই ধরনের আদেশ হয়েছিল নিয়াজ মোর্শেদের বিষয়েও।

এদিকে মামলটিতে গত ১০ নভেম্বর ১০ আসামির সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তারা হলেন- মাইন্ড এইডের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয়, কো-অর্ডিনেটর রেদোয়ান সাব্বির, শেফ মাসুদ, ওয়ার্ড বয় জোবায়ের হোসেন, তানিফ মোল্লা, সজীব চৌধুরী, অসীম চন্দ্র পাল, লিটন আহাম্মদ, সাইফুল ইসলাম পলাশ ও ফার্মাসিস্ট তানভীর হাসান।

মামলার আসামিদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাখাওয়াত হোসেন ও সাজ্জাদ আমিন এখনো পলাতক।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পারিবারিক ঝামেলার কারণে আনিসুল মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আনিসুলকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালটিতে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই কর্মচারীদের ধাস্তাধস্তি ও মারধরে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করে পরিবার।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় কর্মচারীরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। ঘটনার পর হাসপাতালের অ্যাগ্রেসিভ ম্যানেজমেন্ট রুমে তাকে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, হাসপাতালে ঢোকার পরই আনিসুল করিমকে ছয় থেকে সাতজন টেনে-হেঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মাথার দিকে থাকা দু’জন হাতের কনুই দিয়ে আনিসুল করিমকে আঘাত করছিলেন। এ সময় একটি কাপড়ের টুকরা দিয়ে আনিসুল করিমের হাত পেছনে বাঁধা হয়। চার মিনিট পর তাকে যখন উপুড় করা হয়, তখনই ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। এ ঘটনায় সোমবার রাতে প্রথমে ছয়জনকে আটক করে পুলিশ। পরে আরও একজনকে আটক করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র আনিসুল করিম ৩১ বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এক সন্তানের জনক আনিসুলের বাড়ি গাজীপুরে। সর্বশেষ আনিসুল করিম বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনারে দায়িত্বে ছিলেন।

Share Button