রংপুর ব্যুরো:

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান খানএমপি বলেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকরা ঘাতক খুনি নয়, তারা সেবক। তাদের অবদান অস্বীকার করা যাবেনা। শ্রমিকরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকলে বাংলাদেশ থাকবে। দেশ এগিয়ে যাবে’। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, ‘পরিবহন সেক্টর কোনো দলের নয়। এখানে দলীয়করণ চলবে না। এই সেক্টর সবার। এখানে দলীয় পরিচয় মূখ্য নয়, বরং শ্রমিক পরিচয়ই বড় পরিচয়। এখানে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, ওয়াকার্স পার্টি, জাসদ, বাসদসহ অন্যান্য দলের শ্রমিক ও সংগঠকরা আছেন’। চাঁদাবাজরা শ্রমিক হতে পারে না দাবি সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘সড়কে যারা চাঁদাবাজি করে তারা শ্রমিক নন। তাদের পরিচয় চাঁদাবাজ। অথচ আমার, রাঙ্গার, ওসমানের মতো নেতাদের ছবি ও ব্যঙ্গ কার্টুন তৈরি করে চাঁদাবাজ বলা হচ্ছে’। তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের গণতন্ত্র বাংলাদেশের মানুষ মানে না। এদের গণতন্ত্র মানেই হত্যা, রাহাজানি, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ আর ধর্মের অপব্যাখ্যার প্রচার। তারা ক্ষমতায় থেকেও মানুষ মারে, ক্ষমতার বাইরে থেকেও করছে। তাদের আগুনের রাজনীতিতে ২০১৩-২০১৫ পর্যন্ত ড্রাইভার শ্রমিকদের ৯২ জন প্রাণ হারিয়েছে’। সভায় প্রধান বক্তার ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ স¤পাদক ওসমান আলী। এতে রংপুর জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ও সাবেক এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আখতার হোসেন বাদল, রংপুর জেলা মটর মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ স¤পাদক একেএম আজিজুল হক রাজু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের রংপুর বিভাগ ও জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ স¤পাদক এম এ মজিদ। এসময় বক্তারা শ্রমিকদের সংগঠন ট্রেড ইউনিয়নে শৃঙ্খলা ফেরানোসহ সড়কে দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে বলে জানান। আগামীতে প্রশিক্ষিত শ্রমিক জনবল গঠন এবং লাইসেন্স প্রাপ্তিতে হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা।

Share Button