জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। ফাইল ছবি

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেছেন, উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিশেষ করে নাজুক পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের জন্য সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নের পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন।

 বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ, ভূবেষ্টিত উন্নয়নশীল দেশ ও উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্র (ইউএন-ওএইচআরএলএলএস) সমূহের উচ্চ-প্রতিনিধিদের যৌথ উদ্যোগে ‘কেউ যেন পিছে পড়ে না থাকে এবং কোভিড-১৯ থেকে আগের ভালো অবস্থায় ফিরে যাওয়া : স্বল্পোন্নত দেশসমূহের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটিতে তিনি সভাপতিত্ব করেন।

বিশ্বায়নের চলমান ধারায় কোভিড-১৯ এর ভয়াবহ আঘাত এবং বৈশ্বিক চাকরির বাজারে এর সম্মিলিত নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরেন অনুষ্ঠানটির আলোচকগণ। এ সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে উন্নয়ন অর্থায়ন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধি, স্বল্পোন্নত দেশসমূহের কর্মীদের জন্য যথোপযুক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ইত্যাদি বিষয়ের উপর জোর দেন তারা।

স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা শক্তিশালী কর্মসংস্থান নীতি ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ‘কর্মসংস্থানের সমৃদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি’ তৈরি ; বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য, অর্ধাহার ও ক্ষুধা প্রতিরোধের জন্য উন্নত-সম্পদ এবং ব্যাপক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাসমূহ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশসমূহের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা বিনির্মাণের জন্য গ্লোবাল ভ্যালু চেইন এর অনুন্মোচিত সম্ভাবনাসমূহকে উন্মোচন করা অত্যন্ত প্রয়োজন আর ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতির সুযোগকে ব্যবহার করেই এটি করা সম্ভব। এ প্রসঙ্গে তিনি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনসহ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা গ্রহণ এবং শিক্ষার প্রসার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে আনার গুরুত্বকে তুলে ধরেন। কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে অভিবাসী শ্রমিকেরা যে অবর্ণনীয় দুরবস্থার মধ্যে পড়েছে তার থেকে উত্তরণ ঘটাতে বৃহত্তর বৈশ্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

উদ্বোধনী পর্বে আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত কাতারের স্থায়ী প্রতিনিধি ও কাতারে অনুষ্ঠিতব্য এলডিসি-৫ এর প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আলিয়া আহমেদ সাইফ আল-থানি, মালাওয়ি এর স্থায়ী প্রতিনিধি এবং এলডিসি গ্রুপের সভাপতি রাষ্ট্রদূত পার্কস্ লিগোইয়া, ইউএন-ওএইচআরএলএলএস এর উচ্চ প্রতিনিধি মিজ ফেকিতা মইলোয়া কাটোয়া উতোয়কামানু এবং আইএলও এর উপ-মহাপরিচালক মৌসা ঔমারো। তারা নাজুক পরিস্থিতিতে পতিত মানুষের জন্য উপযুক্ত কাজের সুযোগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের উপর জোর দেন।

আগামী দিনগুলোতে সকলের জন্য উন্নত ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিতের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি টানেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

Share Button