একটি সুপারশোপ। ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিক্রির হিসাবে স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে ভ্যাট আদায় বাড়াতে সরকার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে স্বয়ংক্রিয় হিসাবযন্ত্র বা ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস-ইএফডি স্থাপন করতে যাচ্ছে। তবে এতে আপত্তি রয়েছে ব্যবসায়ীদের।

 বিশেষত অপেক্ষাকৃত ছোট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইএফডির মাধ্যমে ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট আদায় করতে গেলে, ক্রেতা প্রতিষ্ঠানে আসতে চায় না। ফলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টনে ফারস হোটেলে ব্যবসায়ীদের ইএফডি বিষয়ে সচেতন করতে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীদের এক প্রতিনিধি তার এমন উদ্বেগের কথা জানান।

তিনি বলেন, করোনার কারণে আট মাস রেস্তোরাঁয় ব্যবসা নেই। মেট্রো রেলের কাজের কারণে অনেক রেস্তোরাঁয় ক্রেতা আসতে পারে না। এর ওপর দোকানে ইএফডি মেশিন বসানো হচ্ছে। ভ্যাট নিলে দোকানে ক্রেতা আসতে চান না। এভাবে চলতে থাকলে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে গ্রামে চলে যেতে হবে। ভ্যাটের ক্ষেত্রে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কথা এনবিআরকে ভাবতে হবে।

‘ইএফডি-এসডিসি’র ব্যবহার এবং উপকারিতা সম্পর্কে অবহিতকরণ বিষয়ে আয়োজিত ঐ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেট আয়োজিত ঐ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এই অফিসের কমিশনার ডা. এস এম হুমায়ূন কবীর।

এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ক্রেতার বক্তব্য হলো— আমি ভ্যাট দিয়ে আসি। সেই ভ্যাট সরকারের কোষাগারে যায় কি না— তা আমি জানি না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারের কাছে যায় না। ব্যবসায়ীর কেন মনে হবে ভ্যাট তার ওপর বোঝা? ভ্যাট তো ব্যবসায়ী তার লাভের অংশ বা পকেট থেকে দেবেন না। তিনি বলেন, দেশ উন্নত হচ্ছে। আমরা চকচকে ঝকঝকে দেশ চাই; কিন্তু ভ্যাট দিতে চাই না, সব সরকার দেবে। সরকার কি বিদেশিদের কাছে হাত পেতে, ভিক্ষা করে দেবে?

তিনি বলেন, যত বেশি রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে তত আমরা ভ্যাটের হার কমাতে পারব। এছাড়া ইএফডির মাধ্যমে আগামী জানুয়ারি থেকে ক্রেতাকে লটারির মাধ্যমে পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পুরস্কারের ব্যবস্থা করলে ইএফডির মাধ্যমে জনগণের ভ্যাট দেওয়ার অনীহা দূর হবে। যারা (ব্যবসায়ীরা) এখন ভাবছেন—ইএফডি নেওয়ায় বিক্রি কম হচ্ছে, পুরস্কার দিলে ক্রেতা ইএফডি রয়েছে, এমন দোকানেই পণ্য কিনতে যাবেন।

এ সময় এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেন, ইএফডি মেশিন ব্যবহারের ফলে ব্যবসায়ী ও ভোক্তার দুঃখ কমবে। সব জায়গায় ইএফডি মেশিন বসানো হলে বৈষম্যও দূর হবে। সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনবিআর সদস্য ড. আবদুল মান্নান শিকদার, জাকিয়া সুলতানা প্রমুখ।

Share Button