টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঢাকা থেকে বরিশাল-পটুয়াখালী হয়ে পায়রাবন্দর পর্যন্ত আমরা রেললাইন নিয়ে যাব। কাজ আমরা করব। উদ্যোগ নিয়েছি। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য পণ্য পরিবহণ ও মানুষের যোগাযোগের জন্য এটা সহজ হবে।
রোববার (২৯ নভেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিমান, রেল ও সড়ক পথের সার্বিক উন্নয়নে আমরা ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। তাতে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আধুনিক, উন্নত ও বহুমুখী করার দিকে নজর রেখে আমরা কাজ করছি। যাতে আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটা আমাদের। আমাদের জানতে হবে, দেশের উন্নয়নটা কীভাবে হবে। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তাদের দেশের প্রতি কোনো দায়িত্ববোধ ছিল না। কিন্তু আমরা যখন বিরোধী দলেও ছিলাম, দেশের উন্নয়নের কথা ভেবেছি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণের ফলে মানুষের অনেক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ব্যাপক উন্নতি হবে।
স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান আমাদের অকৃত্তিম বন্ধু। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে জাপান সফরে গিয়ে যমুনা নদীর উপর সেতু নির্মাণের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন। আমিও ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে জাপান সফরে গিয়ে রূপসা ও পদ্মায় সেতু নির্মাণে সহায়তা দেওয়ার জন্য জাপানকে অনুরোধ করেছিলাম।
তিনি বলেন, টাঙ্গাইলে কোনও রেললাইন ছিল না। আমরাই প্রথম টাঙ্গাইলে রেল লাইন দেই। রেল পণ্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
বঙ্গবন্ধুসেতুর পশ্চিমপ্রান্তে সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদে আয়োজিত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা। বক্তব্য রাখেন, ঢাকাস্থ জাপান দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি। অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সেতুর পশ্চিমাংশের অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী, হাবিবে মিল্লাত এমপি, ডা. আব্দুল আজিজি এমপি, মমিন মন্ডল এমপি, তানভীর ইমাম এমপি ও ঊর্ধ¦তন কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং যমুনার পূর্বপ্রান্তে তানভীর হাসান ছোট মনির এমপি, হাছান ইমাম খান সোহেল হাজারি এমপি সহ জেলা-উপজেলার ঊর্ধ¦তন কর্মকর্তা ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মোনাজাতের মাধ্যমে শেখ মুজিব রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
রেলওয়ে সূত্রমতে, বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মিত হচ্ছে ডাবল লেনের ৪.৮০কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রেল সেতু। জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেল সেতুটি নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জাইকা। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের মধ্যে মতান্তরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কাজ সমাপ্ত হবে। এই সেতু দিয়ে ১০০ কিলোমিটার বেগে একইসঙ্গে দুটি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। পাশাপাশি সব ধরনের মালবাহী ট্রেন অনায়াসে চলাচল করতে পারবে।
প্রকাশ, ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক ও রেল যোগাযোগ চালু হয়। বঙ্গবন্ধু সেতুতে লাগানো রেল লাইন দিয়ে প্রথমে ব্রডগেজ ও মিটারগেজের চারটি ট্রেন দৈনিক আটবার পারাপারের পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রী চাহিদা বাড়তে থাকায় সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হয়। ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাঁটল দেখা দেওয়ায় সেতুর ওপরে চলাচলকারী ট্রেনের গতিসীমা কমিয়ে দেওয়া হয়।
বর্তমানে ৩৮টি ট্রেন নিয়মিত স্বল্প গতিতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হলেও সময় অপচয়ের পাশাপাশি প্রায়ই শিডিউল বিপর্যয় ঘটছে, বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি।
ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘœ করতে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ ডেডিকেডেট রেল সেতু। এ সেতু চালু হলে প্রতিদিন ৮৮টি ট্রেন একশ’ কিলোমিটার বেগে চলাচল করতে পারবে।

Share Button