ফেনী কারাগারে ধর্ষণ মামলার বাদী-আসামির বিয়ে।

বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণে অভিযুক্ত জিয়াউদ্দিনের জামিন আবেদনের উপর সোমবার আদেশ দেবে হাইকোর্ট। রবিবার আসামির আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদেশের জন্য এই দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

 ধর্ষণ মামলায় গত ২৩ আগস্ট হাইকোর্টে জামিন চান জিয়াউদ্দিন। জামিন আবেদনে বলা হয়, ধর্ষণের শিকার তরুণী ও আসামি বিয়ে করতে সম্মত। এজন্য জামিন দরকার। তখন হাইকোর্ট আদেশ দিয়ে বলে, উভয় পক্ষের (বাদি-বিবাদী) সম্মতি থাকলে জেল কর্তৃপক্ষ জেল গেটে বিয়ের ব্যবস্থা করবে। বিবাহ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে প্রেরণের জন্য ফেনী জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। এরপর উভয় পক্ষের সম্মতিতে চলতি মাসে ফেনী কারাগারে বিয়ে হয় জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে ওই তরুণীর। একইসঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতে প্রতিবেদন পাঠান।

রবিবার আসামির আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী বিবাহ সংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য আদালতে তুলে ধরেন। এরপরই হাইকোর্ট আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করে দিয়েছে বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ২৭ মে ফেনীর সোনাগাজী থানার জিয়া উদ্দিন (২১) বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার পার্শ্ববর্তী বাড়ির এক মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরদিনই ভিকটিম বাদি হয়ে ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, বিবাদীর সঙ্গে আমার প্রায় দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার সময় আমাকে মোবাইল ফোন করে ঘর থেকে ডেকে নেয়। আমি ঘর থেকে বের হলে বিবাদী আমাকে টেনে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে প্রেমের কথা বলে আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। সকালে বিবাদী তার বাড়ি থেকে আমাকে চলে যেতে বলে। পরে আমার পরিবারকে আমাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১) ধারায় দায়েরকৃত মামলায় জিয়া উদ্দিনকে পাঠানো হয় কারাগারে। তদন্ত শেষে চার্জশিট দেয় পুলিশ। এ মামলায় ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ গত ২৩ আগস্ট আসামির জামিন নামঞ্জুর করে। এরপর হাইকোর্টে জামিন চান তিনি।

Share Button