চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসে শ্রেষ্ঠ কৃষক হিসেবে ‘সয়েল কেয়ার এ্যাওয়ার্ড’- এ ভূষিত হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফলচাষি মতিউর রহমান। শনিবার দিনব্যাপী ঢাকার সোনারগাঁও হাটেলে দিবসটি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। বরেন্দ্র অঞ্চলে মাল্টা, কমলা, পেয়ারা চাষে সাফল্য ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তিতে পানি ব্যবহার, প্রাকৃতিক ও জৈব সার ব্যবহার করে মাটির জীব বৈচিত্র রক্ষায় ভূমিকা রাখায় তাঁকে এ পুরস্কার দেয়া হয়।
‘মাটিকে সজীব রাখুন, মাটির জীববৈচিত্র রক্ষা করুন’- প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কৃষি মন্ত্রণালয়। এতে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিসার্চ কাউন্সিল, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, প্র্যাকটিকাল এ্যাকশন বাংলাদেশ, ফুড এন্ড এগ্রিকালচার অফ দি ইউনাইটেড ন্যাশানস।।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভান্ডারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অনলাইনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি মন্ত্রী ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হাসানুজ্জামান কল্লো, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলা রঞ্জন দাশ, সচিব মেসবাহুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার প্রমূখ।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক-চ্যানেল আই’র পক্ষ থেকেও তাঁকে শ্রেষ্ঠ কৃষক হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রথমবারের মত ২০১৩ সালে বারি মাল্টা-১ চাষ করে তাক লাগিয়ে দেন। তাঁর বাগানের ছোট ছোট গাছগুলোয় থোকায় থোকায় মাল্টা দেখে মুগ্ধ হয়েছে ফলপ্রেমীরা। ওই বাগানের মাল্টাই শুধু নয় মাল্টার চারা উৎপাদন করে বরেন্দ্র এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর হাত ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাল্টা বাগান এখন অনেক। খ্যাতি পান তিনি মাল্টা মতি হিসেবে। ওই বাগানেরই অন্য অংশে এখন নানা জাতের থোকায় থোকায় কমলা দেখে মুগ্ধ হচ্ছে মানুষ। শুধু দেখার শোভা নয়, খেতেও ভাল মতির বাগানের কমলা। আমদানি করা বিদেশী কমলার চেয়ে কোন অংশে কম নয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-আমনূরা সড়কের পাশে জামতাড়ায় মতিউর রহমানের ‘মনামিনা কৃষি খামার’। এতে রয়েছ নানা রকমের ফলের বাগান ও নার্সারি। এখানে আম, পেয়ারার পর ২০১৩ সালে সংযুক্ত হয় মাল্টা। মাল্টায় বাজিমাত করার মতই সাফল্য লাভ করেন। সম্প্রসারিত হয় তাঁর ফল বাগানের পরিমান। গত দুবছর থেকে কমলা চাষেও সাফল্য তাঁর দক্ষ হাতের মুঠোই ধরা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Share Button