[বাংলাদেশ ব্যাংক। ছবি: সংগৃহীত]

‘গ্রিন ব্যাংকিং’ বা ‘সবুজ অর্থায়নের’ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সচেতন করতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সচেতনতামূলক কাজ শেষ হয়েছে। ব্যাংকগুলো এখন তা বাস্তবায়ন করছে। ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ হওয়া ঋণের মধ্যে এ জাতীয় অর্থায়নের পরিমাণ ৬ শতাংশ। এর আওতায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ৭৩ শতাংশ ঋণ পেয়েছে।

অবশ্য নারীরা ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে রয়েছে। সবুজ অর্থায়নের ৭৯ শতাংশই পেয়েছেন পুরুষ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ব্যাংকিং বিষয়ে ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

‘সবুজ অর্থায়ন’ : মূলত পরিবেশবান্ধব উপায়ে কারখানা নির্মাণ অথবা স্থাপিত কারখানায় দেওয়া ঋণ এই নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জানা গেছে, গ্রিন ব্যাংকিংয়ের আওতায় তিন ধরনের অর্থায়ন করা হয়। যা হলো—গ্রিন ফাইন্যান্স, ক্লাইমেট রিস্ক ফান্ড এবং মার্কেটিং অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ফর গ্রিন ব্যাংকিং। কেন্দ ীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে একটি অংশ গ্রিন ব্যাংকিংয়ের জন্য বরাদ্দ রাখতে হয়।

গ্রিন ব্যাংকিং কার্যক্রমের মধ্যে কাগজের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে পুরোপুরি অনলাইন কার্যক্রম শুরু, নিজস্ব শাখায় সোলার প্যানেল প্ল্যান্ট, পরিবেশবান্ধব খাতে বিনিয়োগ ও ভবিষ্যত্ বিনিয়োগ পরিকল্পনায় পরিবেশকে অগ্রাধিকার, পরিবেশ ঝুঁকির রেটিং খাত দেখে বিনিয়োগ, মোবাইল ও এসএমএস ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে সবুজ অর্থায়ন করা হয়। পরিবেশবান্ধব পণ্য উত্পাদন ও শিল্প প্রতিষ্ঠায় ২০১১ সাল থেকে তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর শেষে সবুজ অর্থায়নে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫২৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে যা ছিল ২৫ হাজার ৯৫৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে গত ৯ মাসের ব্যবধানে এ খাতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বেড়েছে ২ হাজার ৫৭১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সবুজ অর্থায়ন গ্রহণকারী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২৫ এ। এর মধ্যে ১০৬টি বড় প্রতিষ্ঠান ঋণ নিয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ৩৩২ প্রতিষ্ঠান ঋণ নিয়েছে। এছাড়া কুটির ও অতিক্ষুদ্র ২৭টি এবং অন্যান্য ১০টি প্রতিষ্ঠান ঋণ নিয়েছে। জানা গেছে, গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো নতুন করে সবুজ অর্থায়ন বা বিনিয়োগ করেছে ২ হাজার ৩২০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। যা ব্যাংকের মোট বিতরণকৃত ঋণের ছয় শতাংশ। ব্যাংকগুলোর সঙ্গে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ৮২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, সবুজ অর্থায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে বিভিন্নভাবে উত্সাহিত করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ঋণ দিলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য বেশি সুফল বয়ে আনে। এজন্য এ খাতের দিকে বেশি নজর রাখার জন্য ব্যাংকগুলো বলা হয়েছে।

Share Button