ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর পাশে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ভাঙন ধরিয়েছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ ৭ বিধায়ক (এমএলএ)।

এছাড়া সিপিএম, সিপিআই এবং জাতীয় কংগ্রেস থেকে একজন করে এমএলএ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল কংগ্রেস এমপি সুনীল মণ্ডল, আলিপুদুয়ারের সাবেক এমপি দশরথ তিরকে, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিও বিজেপিতে গেছেন।

এদিকে বিজেপির পাল্লা ভারি হতেই অমিত শাহ বলেছেন, ভোটের আগে তৃণমূলে একাই থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। অমিত শাহ বলেন, তৃণমূল কর্মীরা এক সময় মা-মাটি-মানুষ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু দিদি (মমতা), আপনি সেই স্লোগানকে তোলাবাজির স্লোগানে পরিণত করেছেন। সাইক্লোন আম্ফানের ক্ষতিপূরণের টাকা আপনার দলের লোকেরা খেয়ে নিয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে হাইকোর্ট নির্দেশ দিচ্ছে, সেই টাকায় দুর্নীতি হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু আছে?

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের জনগণ জাতীয় কংগ্রেসকে ৩ দশক ক্ষমতায় থাকতে দিয়েছে। বামেদের ৩৪ আর দিদিকে ১০ বছর দিয়েছেন। আমাদের ৫ বছর সুযোগ দিন। আমরা পশ্চিমবঙ্গকে সোনার বাংলা করে দেখাব।

পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম শাসনামলে বিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থেকে। সেই আন্দোলন থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর উত্থান। ক্রমে এমএলএ, এমপি হয়ে পরে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। মমতা ব্যানার্জির খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তবে কিছু ইস্যুতে দূরত্ব বাড়ে। শেষ পর্যন্ত দল ছেড়েছেন। শনিবার বিজেপিতে যোগদানের আগে জনগণের উদ্দেশ্যে এক খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, মানুষের ভালবাসাতেই আমি সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছি। পশ্চিমবঙ্গ এক কঠিন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তাই রাজ্যবাসীকেই ঠিক করতে হবে তারা কোন পথ বেছে নেবেন।

নন্দীগ্রামের আন্দোলনের মাধ্যমে সিপিএমকে সরিয়ে তৃণমূল ক্ষমতায় আসে। যে জনগণের রায়ে ক্ষমতায় আসা, সেই জনগণ দ্বারা নির্বাচিত দলই আজ জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। রাজ্য এবং দেশের উন্নয়নের বিষয়ে নজর না দিয়ে ব্যক্তি ও পরিবারতন্ত্রই একমাত্র মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক মহল বলছে, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ধাক্কা দিল বিজেপি। এ প্রসঙ্গে সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, ‘নির্বাচনের আগে দল বদলের খেলা চলছে। যারা তৃণমূলে ছিল ক্ষমতা হারানোর ভয়ে এখন বিজেপিতে যাচ্ছে। এদের কোনো নীতি নেই। যা হচ্ছে মানুষ দেখছেন। কেরালার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেখিয়ে দিয়েছে বামেরাই বিকল্প। পশ্চিমবঙ্গে মানুষ সিপিএমের পক্ষে রায় দেবেন।

Share Button