পিকে হালদারের সহকারী শংখ ব্যাপারীকে আদালতে নেয়া হচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমারের (পিকে হালদার) সহকারী শংখ ব্যাপারীকে গ্রেফতার করেছে দুদক। সোমবার তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করা হলে আদালত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পিকে হালদারের দুর্নীতির অনুসন্ধানে শংখ ব্যাপারীকে দুদকের উপ-পরিচালক সালাউদ্দিন জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়।

দুদক সচিব ড. মু আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে, শংখ বেপারী পিকে হালদারের সহযোগী। তার মাধ্যমে পিকে হালদার তার অবৈধ অর্থ বিভিন্ন জায়গায় নিয়েছেন, এমন প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। যার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

সচিব আরো বলেন, শংখ বেপারী পিকে হালদারের সম্পদ বিভিন্নভাবে বিভিন্ন দিকে নিয়ে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তার দখলে ফ্লাট পাওয়া গেছে। যেটা পিকে হালদারের অর্থে ক্রয় করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। পিকে হাওলাদের অর্জিত অর্থ এখন তার কাছে রয়েছে বলে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে কমিশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিকে হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকা অবস্থায় আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে থাকা ৮৩ জনের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কৌশলে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন তিনি ও তার সহযোগীরা। এর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে। কিন্তু ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে পি কে হালদার বিদেশে পালিয়ে যান। বর্তমানে তিনি কানাডায় পলাতক রয়েছেন। তবে ইতিমধ্যে তথ্য প্রমাণের সাপেক্ষে কমিশন তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে।

এদিকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া পিকে হালদারের স্থাবর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর ধানমণ্ডির দুটি ফ্লাটসহ পিকে হালদারের স্থাবর সম্পদগুলো ক্রোকের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন এ আবেদন করেন।

Share Button