জুয়েল রানা লটন, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর আস্থাভাজন, রাজপথের লড়াকু সৈনিক, কর্মী বান্ধব নেতা শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু। দলের দূঃসময়ে নোয়াখালীর রাজপথে তাঁকেই সর্বপ্রথম স্বোচ্ছার দেখা যায়। জামায়াত বিএনপির দূঃশাসনের সময় মিটিং মিছিলে শহরের সর্বত্রই তাকে দেখা যেতো। এজন্য হয়েছেন বারবার নির্যাতিত, কারবরণও করেছেন অসংখ্যবার । কেবল পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বর্তমানে তিনি। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভার চেয়ারে রয়েছেন তার সমসাময়িক কিংবা জুনিয়র নেতারা ।
গেলবার নোয়াখালী পৌরসভার নির্বাচনে আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু, শামছুদ্দিন জেহান, শহিদ উল্যাহ খান সোহেল দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। দলীয় হাই কমান্ড সহিদ উল্যাহ খান সোহেলকে মনোনয়ন দিলে তারা দলের নির্দেশ মেনে একসাথে দলের জন্য কাজ করে গেছেন। মেয়র হয়েছেন শহীদ উল্যাহ খান সোহেল । এরপরেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শামছুদ্দিন জেহান । বাকী রইলেন শুধু আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু ।
ছাত্র জীবনে ছিলেন ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী। ১৯৭৮-১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন নোয়াখালী পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক । ১৯৮০ সালে নোয়াখালী সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের এজিএস, ১৯৮৫ সালে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, ১৯৮৫-১৯৯৫ পর্যন্ত ছিলেন নোয়াখালী পৌর যুবলীগের সভাপতি । ১৯৯৫-২০০৮ সাল পর্যন্ত ২ বার নোয়াখালী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন । এরপর ২০০৮-২০১৪ সালে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । বর্তমানে তিনি পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতির পদে রয়েছেন।
নোয়াখালীর রাজনীতিতে তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসেননি । পারিবারিকভাবেই তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান । তার পিতা মরহুম হাজী আবদুস সোবহান বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন এবং ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা শুনে হার্ট এ্যাটাক করে তিনি মৃত্যুবরণ করেন । মেজো ভাই মরহুম আবদুল করিম এবং সেজো ভাই মরহুম আবদুল জলিল নান্টু দুইজনই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ।
ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করতে গিয়ে বহুবার গ্রেফতার, পুলিশি নির্যাতন ও কারাবরণ করেছেন। ১৯৮১-৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি জামায়াত কর্র্তৃক বারবার নির্যাতিত হয়েছেন তিনি। ২০০৭-০৮ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
নোয়াখালীর রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন ত্যাগী নেতার মূল্যায়ন চান পৌরবাসী । নোয়াখালী পৌর আওয়ামীলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মী সমর্থকদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু আওয়ামীলীগের পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা। মাঠ পর্যায়ের কর্মী সমর্থকরা যে কোন দূ:সময়ে তাকে পাশে পেয়ে থাকেন। তারা আরো জানান, কর্মীবান্ধব ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা আবদুল ওয়াদুদ পিন্টুকে রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়নের এখনই সময়।

Share Button