আব্দুর রহমান রাসেল,রংপুর অফিস:
রংপুরের পীরগাছায় এক আইনজীবির বিরুদ্ধে ৮০ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি লাঠিয়ালবাহিনী দিয়ে দখল করে কাটাতারের বেড়া এবং শত বছরের রাস্তাবন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ এনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে আফসার আলী নামের এক ভুক্তভোগি পরিবার। এতে আরও অভিযোগ করা হয়, পৈত্রিক সম্পত্বি দখল হলেও মামলা করার আইনজীবি পাচ্ছে না তারা। পুলিশও নিচ্ছে না মামলা। তবে অভিযোগ উঠা আইনজীবির দাবি ওই জমি তাদের বরগা দিয়েছিলেন তিনি, একটি জাল দলিল করে তারা ওই জমি নিজেদের বলে দাবি করে আসছিল।
সেখান থেকে জমি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে সেখানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের পশ্চিম ব্রাম্মনীকুন্ডা গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিপন মিয়া। এসময় উপস্থি ছিলেন ভুক্তভোগি পরিবারের আফসার আলী, শিরিনা বেগম, এনছার আলী, ফুল মিয়া, রেজা মিয়া, মিনা বেগম, লাল বানু, লাইলী বেগম, শারমিন আখতার, পারুল বেগম, লাইজু বেগম, রুমকি আখতার প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্রাম্মনীকুন্ডার মৌজার সিএস খতিয়ান নং ২২৮/১, ২২৮/২, এসএ খতিয়ান ১৯৫, ২২৪, দাগ- নং ৫০৩, ৫০৪, ৫০৬, ৫৩০, ৫৩১, ৫৩৩, ৫৩৬, ৫৩৭, ১০০১ এবং ১০০৮ এর ৮ একর ২৪ শতক জমি কিনু আকন্দ ১৯৪২ সালের কবুলিয়াত (নং ২৭৮৬) মুলে ভোগ দখল করে আসছেন। এই জমির মধ্যে ১৯৬২ সালের মাঠ রেকর্ডে ৫৩১ দাগের ২ একর ৭৬ এর স্থলে ২ একর ১০ এবং ১০০৮ দাগে ৯৪ শতকের স্থলে ৬৩ শতক মোট ৯৭ শতক জমি কিনু আকন্দের উত্তরসুরিদের নামে কম রেকর্ড হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের মাঠ রেকর্ডে কবুলিয়াত অনুসারেই সমুদয় জমি রেকর্ড হয় এবং ওয়ারিশগন ভোগ দখল করে আসছেন। এরই মধ্যে স্থানীয় হাবিবুল্লাহ মিয়ার নাতি রংপুর জজ কোর্টের আইনজীবি জহুরুল হক ১৯৯২ সালের ওই মাঠ রেকর্ড সংশোধনের জন্য মামলা দায়ের করেন (নং ২৫১)। এই মামলায় এখনও কোন আদেশ দেন নি আদালত।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আদালতে মামলা করে রায় না পাওয়ার আগেই আইনজীবি জহরুল হক গত ১৭ ডিসেম্বর সকালে ৫ শতাধিক লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে এসে আমাদের ৫৩১ ও ১০০৮ দাগের ১ একর ৫৪ শতক জমি দখল করে এবং সেখানে থাকা প্রায় দেড় শতাধিক আম, কাঠাল, সুপারি ও লিচুর গাছ কেটে ফেলে। পরে পুরো জমিটি কাটা তারের বেড়া দিয়ে ঘিরে নেয়। এসময় লঠিয়ালবাহিনী আমাদের সকল সদস্যদের ঘরের মধ্যে বন্দি করে রাখে।

সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, লাঠিয়ালবাহিনী তান্ডব চালানোর সময় আমি ৯৯৯ এ ফোন করে জানাই। কিন্তু আমাদের জমি দখল হয়ে যাওয়ার পর পীরগাছা থানা থেকে পুলিশ এসে উল্টো আমাদেরকেই শাসিয়ে যায়। আমরা থানায় এজহার দিতে গেলে পীরগাছা থানার ওসিসহ পুলিশ আমাদের তাড়িয়ে দেয়। পুলিশ মামলা নেয়নি উল্টো আমাদের এখনও শাসিয়েছে। ঘুড়তে ঘুড়তে গত ২৯ ডিসেম্বর একটি জিডি নিয়েছে থানায়।
সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর কোর্টে মামলা করার জন্য গত ১৫ দিন ধরে ধর্না দিচ্ছি। কিন্তু কোন আইনজীবি আমাদের মামলা নিচ্ছে না। আইনজীবির কাছে গেলে তারা বলে আমরা জহুরুল হকের বিরুদ্ধে মামলা নিতে পারবো না। কারণ জহরুল হক নিজে বাদি হওয়া মামলা ওকালত নামায় অধিকাংশ আইনজীবিদের স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছেন।
এ ব্যাপারে পীরগাছা থানার ওসি আজিজুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ এ ফোন পাওয়ার পরই সেখানে পুলিশ গিয়েছিল। কিন্তু মামলা নেয়ার মতো ওফেন্স না হওয়ায় মামলা নেয়া হয় নি। তিনি বলেন, যতুটুকু তদন্তে পাওয়া গেছে, সেটা হলো এ্যডভোকেট সাহেব জাল দলিলের মামলা করেছেন। সেখানে তিনি জমি বরগা দিয়েছিলেন। সেই জমি তারা উদ্ধার করেছে। কিন্তু মামলার রায় না হওয়ার আগেই জমি দখলের নিয়ম আছে কিনা সে বিষয়ে তিনি কোন উত্তর দেন নি।

এ ব্যপারে রংপুর আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল হক প্রামাণিক জানান, আইনজীবি সমিতির নিয়মানুযায়ী সমিতির সদস্যভূক্ত কোন আইনজীবি যদি কারো বিরুদ্ধে বাদি হয়ে মামলা করে। তাহলে ওই আইনজীবির বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে সমিতিতে আবেদন করে অনুমতি নেয়ার একটি ফরমালিটিস আছে। আমি যতদুর জানি এর আগে একজন আইনজীবি এ ঘটনায় মামলা করার অনুমতি চেয়েছিলেন, সমিতি থেকে তাকে অনুমতি দেয়া হয়েছিল।
এ ব্যপারে রংপুর আইনজীবি সমিতির সদস্য জহরুল হক সাংবাদিকদের জানান, আমার পৈত্রিক সম্পত্বি আমি আফসার আলী গংগকে বড়গা দিয়েছিলাম। তারা কিছুদিন থেকে ফসলের ভাগ দিচ্ছিল না এবং একটি জাল দলিল করে তারা ওই জমি নিজেদের বলে দাবি করে। ওই জাল দলিলের বিষয়ে আমি মামলা করেছি। ওই মামলায় দুইজনকে গ্রেফতারও আছে। আমি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্বি আমার নিজ হেফাজতে নিয়েছি। এছাড়াও তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই তাদের দুইজন ওয়ারিশ জমির ব্যপারে না দাবির এফডেভিট করেও দিয়ছেন।