ছবি: সংগৃহীত

চাল ও পেঁয়াজের বাজারে শৃঙ্খলা আনতে শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পথে হাঁটল সরকার। স্থানীয় কৃষককে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমদানিতে কিছুটা রাশ টানতে ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

অন্যদিকে চালের বাজারের অস্থিরতা কমাতে আমদানিতে বিদ্যমান সাড়ে ৬২ শতাংশ শুল্ককর ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। চাল আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ ও সম্পূরক শুল্ক ২৫ শতাংশসহ মোট ৩৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। এর ফলে চাল আমদানির খরচ কমলে বাজারে চলমান ঊর্ধ্বগতিতে লাগাম বসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার এনবিআর এ আদেশ জারি করেছে।

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম স্বাক্ষরিত ঐ আদেশে বলা হয়, চালের আমদানি শুল্ক কমানোর সম্পর্কিত এ আদেশ আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

প্রসঙ্গত, করোনা আসার পর থেকে দেশের চালের বাজারে অস্থিরতা চলছে। ক্রমাগত বাড়ছে দাম। অতীতে স্থানীয় কৃষককে সুরক্ষা দিতে চাল আমদানি নিরুত্সাহিত করার লক্ষ্যে সাড়ে ৬২ শতাংশ শুল্ককর আরোপ করা হয়। তবে লাগামহীন দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভোক্তাকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে। এ লক্ষ্যে চালের আমদানি শুল্ক ৩৫ শতাংশ কমানো হলো।

এছাড়া পেঁয়াজের সংকটকালে বাংলাদেশে বড় রপ্তানিকারক দেশ ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় এখানে হুহু করে বাড়তে থাকে দাম। এখন দেশের বাজারে কৃষকের পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এই সময়ে এসে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়ে গেলে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। ফলে কৃষক লোকসানের মুখে পড়তে পারেন। কৃষককে সুরক্ষা দিয়ে স্থানীয় পেঁয়াজ উত্পাদনে উত্সাহিত করতে পেঁয়াজের দাম যাতে যৌক্তিক পর্যায়ের নিচে না নামে, সে দাবি উঠতে থাকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে। ইস্যুটি নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও।