হাইকোর্ট [ফাইল ছবি]

মাদক মামলায় কারাগারে থাকা পল্লবীর বেনারসি কারিগর মো. আরমানকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান আজ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত ও রিটকারী পক্ষে রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানি করেন

গত ৩১ ডিসেম্বর আরমানকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অপরাধী না হয়েও প্রকৃত আসামির পরিবর্তে কারাভোগের জন্য তাকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বলা হয়। রায় প্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনারকে এই অর্থ আরমানকে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয় ঐ রায়ে।

এ সংক্রান্ত রিটের রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় দেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছে, এটা কোন নিছক দুর্ঘটনা নয়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এই ব্যর্থতা সংশ্লিষ্ট গুটিকয়েক পুলিশ সদস্যের নয়, এটা পুলিশ প্রশাসনের সামগ্রিক ব্যর্থতা। গণমাধ্যমের রিপোর্ট ও মামলার নথি থেকে প্রতীয়মান হয় যে পল্লবী থানার দায়িত্বরত তৎকালীন পুলিশ সদস্যদের উপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ছিলো না। এ ধরনের ঘটনা ন্যক্কারজনক। সাংবিধানিক আদালত হিসাবে এতে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।

গত বছরের ১৮ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কারাগারে আরেক জাহালম’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরাধী না হয়েও পাটকল শ্রমিক জাহালমকে জালিয়াতির ৩৩ মামলার আসামি হয়ে ৩ বছর কারাভোগ করতে হয়েছিল। হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে তিনি কারামুক্ত হন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার রেশ না কাটতেই আরেক জাহালম-কাণ্ড বেরিয়ে এসেছে অনুসন্ধানে।

জানা গেছে, পল্লবীর বেনারসি কারিগর মো. আরমান নির্দোষ হয়েও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গত ৩ বছর ধরে কারাভোগ করছেন। রাজধানীর পল্লবী থানার একটি মাদক মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাদক কারবারি শাহাবুদ্দিন বিহারি এ মামলার প্রকৃত আসামি। কিন্তু তার পরিবর্তে সাজাভোগ করছেন আরমান। শুধু পিতার নামের মিল থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে শাহাবুদ্দিন নামে আদালতে সোপর্দ করেছে বলে জোর অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

অন্যদিকে প্রকৃত আসামি শাহাবুদ্দিন কারাগারের বাইরে দিব্যি মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে রিট করেন ‘ল এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষে ব্যারিস্টার হুমায়ূন কবির পল্লব। ঐ বছরের ২৩ এপ্রিল রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে। রুলে আরমানকে কেন মুক্তি এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। ঐ রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আরমানকে মুক্তি ও ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়।