পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিং। ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও কাশ্মীরের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সরব থাকলেও চীনের উইঘুর মুসলমানদের নিয়ে নীরব রয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের একজন রক্ষক হিসাবে নিজের অবস্থান জাহির করেছেন তিনি।

ইমরান খান ফরাসী রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোকে “ইসলামোফোবিয়াকে উত্সাহিত করার” ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। এছাড়াও ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মার্ক জুকারবার্গের কাছে একটি উন্মুক্ত চিঠিতে তিনি ফেইসবুক থেকে ইসলামোফোবিক বিষয়বস্তু নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান। এবং মুসলিম নেতৃবৃন্দকে অমুসলিম দেশগুলিতে ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার আহ্বান জানিয়ে আরও একটি পাবলিক মিসাইভ লিখেছিলেন তিনি।

এর আগে ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচারের বন্দোবস্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কখনই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে পারবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। ইসরায়েলিদের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য চারটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ দ্বারা গৃহীত সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্ত্বেও তিনি এমন সিদ্ধান্ত জানান। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এবং বিশেষত ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তিনি বারবার ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি বৈশ্বিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক একটি কমিটি ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে জানতে পারে যে চীন সরকার উইঘুরদের স্বায়ত্তশাসিত এলাকাকে মূলত একটি বন্দী শিবিরে পরিণত করেছে। সেখানে ১০ লাখের মতো মানুষকে বন্দী করে রাখা হয়েছে।এসব তথ্যের সাথে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগের মিল পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, যেসব লোকজনের ২৬টি তথাকথিত ‘স্পর্শকাতর দেশের’ আত্মীয় স্বজন আছেন তাদেরকে এসব ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে।এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান এবং তুরস্কসহ আরো কিছু দেশ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এছাড়াও যারা মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিদেশের কারো সাথে যোগাযোগ করেছে তাদেরকে টার্গেট করেছে কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরো বলছে, এসব ক্যাম্পে যাদেরকে রাখা হয়েছে তাদেরকে চীনা ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর অনুগত থাকতে। আরো বলা হচ্ছে, তাদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনা করতে অথবা সেই ধর্ম পরিত্যাগ করতে।

এ বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব পাকিস্তান। যতোটা না আমেরিকা ও ইউরোপ সরব। পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তবে চীনের উইঘুর সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়নের বিষয়ে তাঁর বধিরতায় স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো মুসলিম বিশ্ব।

ভারত ও কাশ্মীরের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সরব থাকলেও দুটি কারণে চীনের উইঘুর মুসলমানদের নিয়ে তার দেশ নীরব রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, প্রথমত, ভারতে যা ঘটছে, তার সঙ্গে চীনে উইঘুরদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তার তুলনা করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, চীন পাকিস্তানের খুবই ভালো বন্ধু।

পাকিস্তানের সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে চীন সহায়তা করেছে জানিয়ে সাবেক এই ক্রিকেট তারকা আরও বলেন, ফলে এই বিষয়গুলো চীনের সঙ্গে গোপনে আলোচনা করা হয়, প্রকাশ্যে নয়। কারণ বিষয়গুলো স্পর্শকাতর।

খানের নীরবতার আসল কারণটি সহজ, চীন তৎক্ষণাৎ পাকিস্তানের নিকটতম মিত্র এবং ইসলামাবাদ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহায়তার জন্য বেইজিংয়ের উপর প্রচুর নির্ভর করে। চীনের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে বিরোধিতা করা সহজ হয় না। ফরেন পলিসি ডট কম।