ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর কাওরান বাজার রেললাইনসংলগ্ন পশ্চিম পাশে মাছের আড়ত। পূর্ব পাশে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার উঁচু দেওয়াল। মধ্যে রেললাইন। মেট্রোরেল প্রকল্পের কারণে সম্প্রতি রেললাইনের দুই পাশে দেওয়া হয়েছে লোহার তারের উঁচু বেড়া।

 

বেড়ার পূর্ব পার্শ্বে এফডিসির (বাংলাদেশে চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা) উঁচু সীমানা দেওয়াল। এফডিসির উঁচু দেওয়াল লাগোয়া এলাকায় প্রতিদিন খুব ভোরে ক্রেতাদের মাছ কাটার বঁটি নিয়ে বসে শতাধিক নারী, পুরুষ ও শিশু। তবে বেলা ১০টা থেকে ১১টার মধ্যেই মাছ কাটা শেষ হয়ে যায়। পরে স্থানটি পরিষ্কার করে যে যার মতো চলে যায়।

সরেজমিনে পরির্দশনকালে তাদের সঙ্গে (মাছ কাটাকাটি করা নারী পুরুষ) কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন মাছ কাটাকাটি করে তাদের রোজগার হয় চার থেকে ৫০০ টাকা। কিন্তু প্রতিদিন তাদের ‘জায়গা ভাড়া’ বাবদ গুনতে হয় ১০০ টাকা। অপর দিকে কাওরান বাজার মাছ আড়ত ঘিরে কয়েক শ মানুষ আছেন, যারা আড়ত থেকে মাছ কিনে আড়তের আশপাশে ফেরি করে বিক্রি করেন। আর তাদের গুনতে হয় ৩০০ টাকা। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ইউসুফ নামের এক ব্যক্তি এটা সংগ্রহ করেন রেলওয়ে নিরাপত্তা ও রেল পুলিশের নামে। এ টাকা দিতে কেউ কোনো ওজর-আপত্তি তুললে তাদের অনেক সময় শারীরিক নির্যাতন পর্যন্ত ভোগ করতে হয়।

ভুক্তভোগীরা আরো জানান, গত কয়েক বছর ধরে চলছে এমন চাঁদাবাজি। আগে এখানে ছিল চায়ের টংঘর, খাবার দোকান, এছাড়া রেললাইনের দুই পাশে ছিল কয়েক শ বস্তিঘর। কিন্তু এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের (উড়ালপথ) কারণে সম্প্রতি রেললাইনের দুই পাশে তারের জালি দিয়ে উঁচু বেড়া দেওয়ায় সে সব দোকানপাট উঠিয়ে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তারা বলেন, এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প তদারকি করেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। চাঁদা দেওয়ার বিষয়টি তাদের কাছে অবহিত করার পর সেনা সদস্যরা চাঁদাবাজদের চাঁদা দিতে বারণ করে দেন। এর ফলে কয়েক দিন চাঁদা তোলা বন্ধ ছিল। কিন্তু নজরদারি না থাকায় আবার একই পরিস্থিতি ফিরে এসেছে।

মাছ কেটে জীবিকা নির্বাহ করা এক নারী জানান, তিনি যে টাকা পান তা দিয়ে তাদের ছয় সদস্যের সংসার চলে। কিন্তু অসুস্থ থাকায় তিন দিন কাজে (মাছ কাটার) আসতে পারেননি। কিন্তু পরের দিন কাজে আসার পর ঐ দিন দিনের (বকেয়া) চাঁদাও তাকে পরিশোধ করতে হয়। অথচ সেদিন ঐ কাজ থেকে ৪০০ টাকা পেয়েছিলেন। ৩০০ টাকা চাঁদা দিয়ে মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে বাসায় ফিরতে হয়।

এ ব্যাপারে ঢাকা জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রকিব উল হোসেন বলেন, রেলপুলিশ কারো কাছ থেকেই চাঁদা নেয় না। দেখুন যারা চাঁদা তোলে তাদের পুলিশের ইউনিফর্ম আছে কি না। তবে রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের নামে টাকা আদায় হয়ে থাকতে পারে।

 অপর দিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগের পরিদর্শক (তেজগাঁও রেল স্টেশন) সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাওরান বাজার মাছের আড়তে তাদের কোনো সদস্য দায়িত্ব পালন করে না। ফলে রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সঠিক না। ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি আপনাদের কথা বলে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এ ব্যাপারে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।