ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মফিজুর রহমান মামুনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ।

সোমবার ভোরে রাজধানীর পল্লবীর বাইতুন নুর জামে মসজিদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের একটি টিম। তার বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় ২৭টি মামলা, ১৫টি গ্রেফতারি পরোয়ানা ও দুটি সাজা পরোয়ানার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রবিরোধী একটি সন্ত্রাসী চক্র টার্গেট কিলিং ও ব্যাপক সহিংসতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে চোরাবাজার থেকে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছে মর্মে তথ্য পায় ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ভোরে পল্লবীর বাইতুন নুর জামে মসজিদের পাশের রাস্তা থেকে এ সন্ত্রাসী চক্রের সদস্য সন্দেহে মফিজুর রহমান মামুন নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তি, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি মফিজুর রহমান মামুন বলে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, খুন, মাদক, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও ডাকাতির অভিযোগে পল্লবী থানায় ২৭টি মামলা, ১৫টি গ্রেফতারি পরোয়ানা ও দুটি সাজা পরোয়ানা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত মামুন এক সময়ে মিরপুরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ করতেন। ২০০১ সালে কিছুদিন কারাভোগের পর ২০০৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান মামুন। পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০০৮ সালে ভারতে গ্রেফতার হয় এবং ১০ বছর সাজা ভোগ করে। কারাভোগ শেষে ভারতে বসেই মামুন বিদেশে অবস্থানরত মিরপুরের অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী ইব্রাহিম ও সাহাদাত বাহিনীর প্রধান সাহাদাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সমম্বয়ের মাধ্যমে ঢাকার মিরপুর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করার জন্য তৎপর হয়। মামুন বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে চাঁদা দাবি করতো। অপরাধ জগতে তার অবস্থানকে সুসংহত করতে সম্প্রতি সে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত মফিজুর রহমান মামুনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।