ছবিঃ সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, জিয়াউর রহমানসহ যে পাঁচ জনের রাষ্ট্রীয় খেতাব জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) বাতিলের সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে তা রাজনৈতিক কারণে নয়, দালিলিক প্রমাণ রয়েছে। এ সংক্রান্ত উপকমিটির পরবর্তী বৈঠকে বঙ্গবন্ধু হত্যায় কার কী ভূমিকা আছে, তা দালিলিক প্রমাণসহ উপস্থাপন করা হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বুধবার মন্ত্রী বলেন, খেতাব বাতিলের এমন নজির শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও আছে। অনেকের কর্মকাণ্ডের জন্য সম্মানসূচক খেতাব প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রফেসর ইব্রাহিমকে ‘নিশানে পাকিস্তান’ খেতাব দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু পরে ছয় দফা আন্দোলনকে সমর্থন করায় সেটি আবার কেড়েও নিয়েছিল দেশটি। কেউ একবার খেতাব পেলেও পরবর্তী সময়ে তার কার্যক্রম দেশ ও স্বাধীনতার বিরুদ্ধে গেলে সরকার সেটি প্রত্যাহার করতেই পারে। তারা সবকিছু পর্যালোচনা করে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রতি মানুষের আবেগ অনুভূতিকে বিবেচনায় নিয়ে সুপারিশ করেছেন।

আ ক ম মোজাম্মেল হক আরো বলেন, মঙ্গলবার জামুকার বৈঠকে খন্দকার মোস্তাক, জিয়াউর রহমান, মাহবুবুল আলম চাষীসহ এ রকম আরো অনেকের নাম নিয়েই কথা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ততা কী, তাদের কার কী ভূমিকা তার দালিলিক প্রমাণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আইনি জটিলতা বোধহয় নেই: আইনমন্ত্রী

এদিকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বাতিলে আইনি কোনো জটিলতা বোধহয় নেই। যিনি মুক্তিযোদ্ধা নাম ধারণ করে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নষ্ট করেছেন, তার কি সেই খেতাব থাকার কোনো অধিকার আছে—এই প্রশ্ন আমি দেশবাসীর কাছে রেখে গেলাম। গতকাল কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনা টিকা নেওয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারদের একজন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সুপারিশ করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের জাতির পিতা ও প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় জড়িত থাকা এবং রাজাকারদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনসহ আরো কিছু অভিযোগ।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ‘স্মরণীয় বরণীয়’ ব্যক্তিদের যে রাষ্ট্রীয় তালিকা রয়েছে, সেখান থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে খন্দকার মোশতাক আহমেদের নাম; যিনি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত এবং দণ্ডপ্রাপ্তদেরও খেতাব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

 প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদক হিসেবে ৬৮ জনকে ‘বীর উত্তম’ খেতাব দেওয়া হয়েছিল এবং এ তালিকায় ৩ নম্বরে ছিল জিয়াউর রহমানের নাম। তালিকায় যাদের নাম ছিল তাদের মধ্যে আব্দুল কাদের সিদ্দিকী ছাড়া বাকি সবাই সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ছিলেন। ১৯৭২ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে ঐ খেতাব প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে তখন তা কার্যকর করা হয়েছিল। যা সামরিক গেজেটে প্রকাশিত। এখন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল তা বাতিলের সুপারিশ করল। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি কার্যকর করবে।