দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক বার্তা এবং কার্যনির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজা নূর মারা গেছেন। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কানাডার ভ্যাংকুভার হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় (ইন্না লিল্লাহিরাজিউন)

তিনি দীর্ঘদিন কোলন ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৭ বছর। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র সৌরভ রেজা নূর আবির রেজা নূর এবং স্ত্রী খুরশিদ জাহানকে রেখে যান।

তিনি শহীদ সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের দ্বিতীয় সন্তান। তার আরও সাত ভাই হচ্ছেনশামীম রেজা নূর, ফাহিম রেজা নূর, নাসিম রেজা নূর, সেলিম রেজা নূর, শাহীদ রেজা নূর, জাহীদ রেজা নূর এবং তৌহিদ রেজা নূর

শাহীন রেজা নূর ১৯৭২ সালে ঢাকা বেতার কেন্দ্রে বার্তা বিভাগে অনুলিপিকারের চাকরি গ্রহণের মধ্যদিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৭৩ সালে দৈনিক ইত্তেফাকে যোগ দেন। দীর্ঘকাল তিনি ইত্তেফাকের সাথেই জড়িত ছিলেন। ১৯৮৮ সালে তিনি কানাডায় অভিবাসী হন। প্রথমে মন্ট্রিয়লে পরে ভ্যাংকুভারে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন

শাহীন রেজা নূরপ্রজন্ম একাত্তরসংগঠনের সভাপতি ছিলেন এবং তিনি জামায়াত নেতা আলী আহসান মো. মুজাহিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অন্যতম সাক্ষীও ছিলেন

তার মৃত্যুতে গভীর শোক দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোক বার্তায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গণআন্দোলনে শাহীন রেজা নূরের ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। সেই সাথে প্রয়াতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান

ভ্যাংকুভার থেকে ডাক্তার অসিত ইত্তেফাককে জানান, তাকে কোথায় দাফন করা হবে, তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে লাশ বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হলে দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কথা বলেছেন ওটোয়াস্থ হাই কমিশনার . খলিলুর রহমান

খলিল ইত্তেফাককে বলেন, তার বাবা এদেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন এবং এদেশ গড়ার ক্ষেত্রেও তার অবদান অনেক।

হাই কমিশনার তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শাহীন রেজা নূরের মৃত্যুতে অটোয়া, টরন্টো, মন্ট্রিয়ল এবং ভ্যাংকুভারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।