আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে করোনা ভ্যাকসিনের প্রথম চালানের ৫০ লাখ প্রয়োগের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারিভাবে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ডঅ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার কোটি ডোজ কিনছে, যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ গত ২৬ জানুয়ারি দেশে আসে। চলতি ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে দ্বিতীয় চালান, মার্চের শেষ সপ্তাহে তৃতীয় চালান এবং এপ্রিলে চতুর্থ চালান আসছে। বাকিটি জুনের মধ্যে আসবে

এদিকে দেশে করোনা ভাইরাসের গণ টিকাদান পরিকল্পনায় আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে, প্রথম ডোজ দেওয়ার আট সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়ার সময়ে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. বি এম খুরশীদ আলম বলেন, আগামী মার্চ মাসে কোভ্যাক্স থেকে ৫০ লাখ ডোজ করোনা ভাইরাসের টিকা পাওয়া যাবে। সময় দেশে টিকা মজুত থাকবে কোটি ডোজ। টিকা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। টিকার জন্য নিবন্ধনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গতকাল পর্যন্ত ১৮ লাখ ৬০ হাজার ১২৬ জন নিবন্ধন করেছেন। টিকা গ্রহণেও আগ্রহ বাড়ছে। প্রতিটি কেন্দ্রে মানুষের ভিড়। গতকাল পর্যন্ত ১১ লাখ ৩২ হাজার ৭১১ জন টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৪০০ জনের মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (জ্বর, সামান্য ব্যথা, কিছু সময়ের জন্য ঘুম ঘুম ভাব) দেখা দিয়েছে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস বা গ্যাভি এবং কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের গড়া প্ল্যাটফরম হলো কোভ্যাক্স; যা গঠিত হয়েছে বিশ্বের সব মানুষের সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক পাওয়া নিশ্চিত করতে। কোভ্যাক্স বাংলাদেশকে যে টিকা দিচ্ছে সেটি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে তৈরি অক্সফোর্ডঅ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত টিকা বলেও জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বাধীন এই প্ল্যাটফরম

অধ্যাপক ডা. বি এম খুরশীদ আলম বলেন, ইতিমধ্যে যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের দ্বিতীয় ডোজের জন্য এক মাস পরের তারিখ দেওয়া হয়েছে। সেই তারিখ বদলে দুই মাস পর টিকা নেওয়ার নতুন এসএমএস দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, অক্সফোর্ডঅ্যাস্ট্রাজেনেকা শুরুতে জানায়, টিকার দুই ডোজের মধ্যে ব্যবধান হবে চার সপ্তাহ। কিন্তু পরে বলা হয়, এই ব্যবধান বাড়লে টিকার কার্যকারিতাও বাড়ে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, ‘টিকা প্রতিষেধক করোনা চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। তাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে না ভুগে সবারই টিকা নেওয়া উচিত।দেশে এখনো মজুত আছে ৬০ লাখ। প্রথম চালানের ৫০ লাখ টিকা ব্যবহারের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৫ এপ্রিল। বাকি ২০ লাখ টিকার মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত। টিকা উৎপাদনের তারিখ থেকে ব্যবহারের মেয়াদের সময়সীমা ছয় মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান

এদিকে সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে কোভিড১৯ টিকার দ্বিতীয় চালান ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে আসবে বলে জানিয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন এমপি। গতকাল সোমবার ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনা ভাইরাসের টিকা নেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে কথা জানান তিনি

বাংলাদেশ সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে যে কোটি ডোজ টিকা কিনেছে তা আনছে বাংলাদেশে সিরামেরএক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটরবেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। সারা দেশে এক দিনে করোনা ভাইরাস টিকা নেন লাখ ২৬ হাজার ৬৭৮ জন। এখন পর্যন্ত টিকা গ্রহীতার হিসাব অনুযায়ী এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ